উত্তরপাড়ার পর বেলেঘাটা। এবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপির গুন্ডাদের হাত্র আক্রান্ত হলেন তৃণমূল বিধায়ক। সবচেয়ে আশ্চর্যের হল সকালে এই ঘটনা ঘটল। অর্থাৎ সকলের চোখের সামনে। প্রকাশ্যে, সকলের চোখের সামনে। ঘটনা ঘটে সকাল ১০.৩০ মিনিটের আশে পাশে। গতকালের ঘটনার পরেও পুলিশ-প্রশাসন কুণালের নিরাপত্তার কথা ভাবেনি।
রবিবার রীতিমতো প্রাণঘাতী হামলা চালানো হল কুণালের উপরে। গাড়ির চালকের তৎপরতায় নারকেলডাঙ্গা থানায় গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন কুণাল এবং তাঁর সহকর্মীরা।
রবিবার সকালে বেলেঘাটা বিধানসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোন কুণাল। বাড়ি থেকে বেরনোর সময়তেই কুণাল ও তাঁর সহকর্মীরা লক্ষ্য করেন, বাইকে করে গুন্ডারা তাঁকে ফলো করতে শুরু করেছে। দক্ষিণী সিনেমার কায়দায় বাইক বাহিনী দুদিক দিয়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে। এরপরই শুরু হয় গাড়ির উপর আক্রমণ। উত্তরপাড়ায় রড দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙা হয়েছিল এবার হাতুড়ি দিয়ে হামলা। ভাঙা হল কাচ, গাড়ির বনেট। কাচ ভেঙে ঝুলতে ঝুলতে এক দুষ্কৃতী হাতুড়ি দিয়ে কুণালের উপর হামলাও চালায়। আহত হন। আঘাত পান। গাড়ির মধ্যেই সেই হাতুড়ি তারা ফেলে যায়। কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে নারকেলডাঙা থানায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পরেন কুণাল ও তাঁর সহকর্মীরা।

শুক্রবার রাতে দলীয় কর্মী অসুস্থ গোপাল পোড়েলকে বেলেঘাটায় দেখতে গেলে সন্ধ্যায় রাস্তায় কুণালকে আক্রমণ করা হয়। এখানেই শেষ নয়, শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে ব্যাপক হামলা হয়। তবে রবিবারের ঘটনা সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল। বরাবরই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়া কুণালকে আক্রমণ করছে করা হচ্ছে কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এর আগে আদালতের নির্দেশে নিরাপত্তা পেতেন কুণাল। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসেই খরচের অজুহাত দিয়ে নিরাপত্তা তুলে নেয়। বর্তমানে বিধায়কের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের একজন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। কিন্তু তা যে যথেষ্ট নয়, তা আর একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল বেলেঘাটার ঘটনা।

প্রথমে থানার ভিতর থেকে ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে কিছুটা আবেগপ্রবণও হয়ে যান। এরপর গোটা বিষয়টি নিয়ে নারকেলডাঙা থানার সামনে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল। তাঁর কথায়, “উত্তরপাড়ায় আক্রমণ করে শান্তি হয়নি। আমি নিশ্চিত আমাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে। আমি বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই গাড়ি ফলো করা শুরু হয়। বাইক বাহিনী আমার গাড়ি ঘিরে ফেলে, যা দক্ষিণী সিনেমায় দেখি। এমনকি গাড়ির সামনে এসে একজন হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙতে থাকেন এবং আমার দিকে বন্দুক তাক করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের কর্মীকে রিভলবার বের করতে হয়।”

কুণাল বলেন, “আজ আপনাদের আমার গুলিবিদ্ধ দেহ দেখতে হতো। শুধু আমাকেই নয় আমার সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের উপরও প্রাণঘাতী হামলা হচ্ছে। আমি এর আগে নিরাপত্তা পেতাম হাইকোর্টের অর্ডারে। কিন্তু সেটাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কোন কিছুই করতে পারছে না। আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি তাদের নাম পুলিশকে জানাচ্ছি।”
যদিও বিজেপি মুখপাত্র দেবজিত সরকার সাফাই দিয়ে বলেছেন, “একজন বিধায়কের উপর হামলার নিন্দা করছি। কিন্ত তৃণমূল এখন অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, তারাই হামলা করছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞাণ মেনেই তৃণমূল শেষ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি কেন কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণ করবে?”
এর পাল্টা কুণাল বলেন, উত্তরপাড়ায় যারা হামলা করেছিল তাদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের ছবি পোস্ট করে দিয়েছি তারপরও কীভাবে বলে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়। কলকাতা শহরে পুলিশ নেই? কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে!
















