রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উজ্জয়িনীর (Ujjayini) শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার প্রস্তাব ঘিরে সোমবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF। জানা গিয়েছে, শাহী মসজিদের একটি অংশ রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভেঙে ফেলার প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মসজিদের প্রার্থনাকক্ষের কিছু অংশ, একটি মিনার এবং সংলগ্ন কয়েকটি কাঠামো সরিয়ে ফেলা হতে পারে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, মসজিদটি বহু পুরনো ওয়াকফ সম্পত্তি। কিছু সূত্রে এর ইতিহাস প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উজ্জয়িনী শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলাকে সামনে রেখে শহরে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের ভিড় সামলাতে একাধিক কাজ চলছে। প্রশাসনের পরিকল্পনায় মোট ২৭২টি কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। মসজিদ ভাঙার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া আবেদনগুলি এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট (Madhya Pradesh High Court) খারিজ করেছিল। আদালত জনস্বার্থ এবং সিংহস্থকে সামনে রেখে যান চলাচলের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেছিল বলে জানা যায়। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সোমবারই হাইকোর্টে আরও শুনানি হওয়ার ছিল।

 এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ (Congress MP Imran Pratapgarhi Mosque) কমপ্লেক্সের অংশবিশেষ ভাঙার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখা উচিত। রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদ ভাঙার প্রশাসনিক উদ্যোগে আরও সংবেদনশীলতা থাকা দরকার। উন্নয়ন ও অগ্রগতির নামে শুধু রাস্তা চওড়া করার জন্য ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন বারবার মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের এই অবস্থান কী বার্তা দিতে চাইছে সেটা অজানা নয়। তিনি আরও বলেন, উজ্জয়িনীর হাজার হাজার তরুণ এই ইস্যুতে লাগাতার আওয়াজ তুলছেন। উজ্জয়িনী প্রশাসন যেন মানুষের আবেগকে সম্মান করে এবং রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অন্য দিক থেকে অধিগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করে,এমনটাই অনুরোধ করেন তিনি। এত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে দেওয়াকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না বলেই মনে করছেন তিনি। মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পরিকল্পনা ও স্থানীয় মানুষের আপত্তি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এখন উত্তপ্ত উজ্জয়িনী। আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর গোটা দেশের।