ই-চালান কাটা হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু জরিমানার টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে বড়সড় ঘাটতি। দেশজুড়ে জমে থাকা বকেয়া ই-চালানের (Unpaid Traffic Challan) পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার সেই বকেয়া দ্রুত আদায়ের জন্য একাধিক কঠোর ব্যবস্থার কথা বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এমনকি, ট্র্যাফিক জরিমানা আদায়ের জন্য থাকা বকেয়া চালানকে বিদ্যুৎ বিলের (Electicity Bill) সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এটি এখনও আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের পর্যায়েই রয়েছে। দেশজুড়ে এমন ব্যবস্থা চালুর কোনও নির্দেশ এখন পর্যন্ত আদালতের তরফে দেওয়া হয়নি। 

আরও পড়ুন: চোরেরকাণ্ড: চুরি করতে এসে ফ্রিজ খুলে সাবাড় আপেল-চকোলেট

সোমবার ই-চালান সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয় বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানিতে আদালতের সামনে উঠে আসে, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ট্র্যাফিক জরিমানা এখনও বকেয়া। মামলা চলাকালীন প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হলেও এখনও প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ই-চালান বকেয়া রয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে শুধু বিপুল সংখ্যক ই-চালানের জরিমানার টাকা বাস্তবে আদায় হচ্ছে কি না, তার উপর জোর দেন বিচারপতিরা। বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ চালান তৈরি করলেই হবে না, মূল বিষয় হল জরিমানার টাকা আদায় করা। বকেয়া চালান আদায়ের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গ তোলেন বিচারপতি পারদিওয়ালা। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি ট্র্যাফিক জরিমানা না দিলে সেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে যেমন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তেমনই কোনও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে বকেয়া ট্র্যাফিক জরিমানা আদায়ের পথ খুঁজতে হবে বলে মত সুপ্রিম কোর্টের।
শুধু বিদ্যুৎ বিল নয়, বকেয়া ই-চালান আদায়ে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র নবীকরণ বন্ধ রাখা, একই নথির প্রতিলিপি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং গাড়ির মালিকানা বদল আটকে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। গাড়ির ফিটনেস শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও বকেয়া চালান পরিশোধকে শর্ত করা যায় কি না সেদিকেও দিতে হবে নজর। 


শীর্ষ আদালতের মূল বক্তব্য, ই-চালান ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে শুধু জরিমানা আরোপ করলেই হবে না, সেই অর্থ আদায়ের জন্যও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিপুল সংখ্যক চালান তৈরি হওয়ার পরও যদি তার বড় অংশ বকেয়া থেকে যায়, তা হলে পুরো ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। তাই বকেয়া জরিমানা আদায়ে এমন পদ্ধতি খুঁজে বের করার উপর জোর দিয়েছে আদালত, যাতে চালান কেবল নথিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে।