আলমারি ভাঙা, জিনিসপত্র তছনছ! তারপরেই চোখ যায় ফ্রিজের দিকে। ফ্রিজ থেকে উধাও আপেল, চকোলেট। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নিমদহে একই দিনে দু’টি বাড়িতে চুরির ঘটনায় তাই লুটের অঙ্কের পাশাপাশি চোরেদের ‘খাওয়াদাওয়া’ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
আরও পড়ুন: বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক
চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বাড়ির সদস্যদের নজরে আসে, মূল্যবান জিনিসপত্রের পাশাপাশি খাবারও খাওয়া হয়েছে। ফ্রিজ খুলে আপেল, চকোলেট খেয়ে ফেলা হয়েছে। চুরি করতে এসে এ ভাবেই খানিকটা সময় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সোনা-নগদ নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ফলে চুরির জন্য বাড়িতে ঢোকার পর দুষ্কৃতীরা বেশ কিছুক্ষণ ছিল বলেই মনে করছেন পরিবারের লোকজন।
ঘটনাস্থল রাসমণি স্মৃতি ভবন সংলগ্ন এলাকা। কালনা-কাটোয়া রোডের ছাতনি মোড় থেকে জামালপুরের বুড়োরাজ মন্দিরের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে রয়েছে বাড়ি দু’টি। প্রথম বাড়ির বাসিন্দা কৃষ্ণা দাস বৈরাগ্য সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না। বাপের বাড়ি থেকে ফিরে তিনি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
বাড়ির ভিতরে ঢোকার জন্য চিলেকোঠার চালের একটি অংশ ভাঙা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ঘরে ঢুকে শোওয়ার ঘরের তালা ভেঙে আলমারিও ভাঙে দুষ্কৃতীরা। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না এবং এক লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কৃষ্ণার স্বামী চন্দ্রনাথ বৈরাগ্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং অরুণাচল প্রদেশে কর্মসূত্রে থাকেন।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরেই শীতলতম রাত! ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল ‘সুপার এল নিনো’
পাশের বাড়িতেও একই সময়ের মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে বাড়ির লোকজন ফিরে দরজার নীচের অংশ ভাঙা দেখতে পান। ঘরের ভিতরে ঢুকে তাঁরা বুঝতে পারেন, সেখান থেকেও গয়না ও টাকা নিয়ে গিয়েছে চোরেরা। একসঙ্গে পর পর দু’টি বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির ভিতরে ঢোকার পর দীর্ঘ সময় ধরে থাকার বিষয়টি নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বস্থলী এলাকায় এর আগেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। কী ভাবে দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকেছিল, কত জন ছিল এবং চুরি করা সামগ্রী কোথায় সরানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
















