এক-দু’টি নয়, উদ্ধার হাজার হাজার লটারির টিকিট। ভুয়ো লটারির টিকিটের (Fake Lottery Tickets) কারবারের পর্দাফাঁস করে বড়সড় সাফল্য পেল মল্লারপুর থানার পুলিশ (Mallarpur Police Station)। ভুয়ো লটারির টিকিটের কারবারের হদিশ পেয়ে পরপর অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ (Police)। উদ্ধার হওয়া টিকিটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্র্যাফিক চালান বকেয়া থাকলেই বোঝা বাড়বে বিদ্যুৎ বিলে!
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ সেপ্টেম্বর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মল্লারপুর থানার পুলিশ বাহিনা মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় মাধব সাহা, সুভান বাদ্যকর এবং সাহেব শাহকে। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় চার হাজার সন্দেহভাজন ভুয়ো লটারির টিকিট উদ্ধার হয়। এরপর ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই পরবর্তী অভিযান চালিয়ে সফিউল আহমেদ ওরফে কালু এবং মহম্মদ হাসিল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকেও উদ্ধার করা হয় বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন ভুয়ো লটারির টিকিট।
তদন্ত সেখানেই থেমে থাকেনি। সফিউল আহমেদ ওরফে কালুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে ফের অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে আরও বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন ভুয়ো লটারির টিকিট উদ্ধার হয়। এরই মধ্যে সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে আম্বা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাপাই গড়াই নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো লটারির টিকিট সরবরাহ ও বণ্টনের কাজে তাঁর যোগ থাকতে পারে। তাঁর সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের যোগাযোগ কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পরপর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪ হাজার সন্দেহভাজন ভুয়ো লটারির টিকিট। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। বিপুল সংখ্যক টিকিট উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে এক বা দুজন যুক্ত নয়। এর পিছনে একটি সংগঠিত সরবরাহ ব্যবস্থা থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন পুলিশের নজরে চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক। টিকিটের মূল জোগানদাতা কে, কারা সেগুলি বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিত এবং স্থানীয় স্তরে কারা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকিটের কারবারের মাধ্যমে হওয়া আর্থিক লেনদেনেরও সন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। শুধু মল্লারপুর বা বীরভূমেই এই কারবার সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর সঙ্গে জেলার বাইরের কোনও চক্রের যোগাযোগ রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ।
















