মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় পুনরায় মহাকরণে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দেবীপক্ষের সূচনা থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে নিজের প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত রাখতে সোমবার নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মহাকরণের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, লালদিঘি লাগোয়া এই ঐতিহাসিক ভবনের নিরাপত্তায় এবার আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি গোটা ভবন চত্বর মুড়ে ফেলা হচ্ছে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার নিশ্ছিদ্র নজরদারিতে। নিরাপত্তার স্বার্থে জারি করা হচ্ছে কড়া বিধিনিষেধ। সচিত্র পরিচয়পত্র এবং আগাম সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও সাধারণ বা অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
জানা গিয়েছে, মহাকরণে কেবল মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ই নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের নগরপালের পৃথক দফতরও সেখানে সক্রিয় থাকবে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের জন্য মহাকরণে পৃথক একটি বিশেষ কক্ষ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে মহাকরণে স্থানান্তরিত করে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে রাজ্য সরকারের মোট প্রায় ১২টি দফতরকে সেখানে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানা গিয়েছে, যদিও বাকি দফতরগুলির তালিকা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী এই সচিবালয় ভবনটিকে ফের রাজ্য প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি চলছে।
















