চাষের জমিতে সেচের জন্য বেআইনি ভাবে টানা বিদ্যুতের তারই কাল হল মা হাতি ও তার দুই শাবকের। শালবনির পিড়াকাটায় (Pirakata in Salboni) জমি থেকে রবিবার তিনটি হাতির (Elephant) দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে জমির মালিক শ্যামল মাহাতোকে (Shyamal Mahato)। পেশায় তিনি কৃষক। রঞ্জা এলাকার বাসিন্দা ওই কৃষকের বিরুদ্ধে ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্র্যাফিক চালান বকেয়া থাকলেই বোঝা বাড়বে বিদ্যুৎ বিলে!

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Electrocuted) হয়েই তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এরপর বিদ্যুতের তারটি কোথা থেকে এবং কী ভাবে জমিতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রাস্তার ধারের মূল বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ‘হুক’ করে সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে একশো মিটারেরও বেশি দূরে জমির সাবমার্সিবল পাম্প পর্যন্ত তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, বন্যপ্রাণীর চলাচলের এলাকায় এ ভাবে প্রকাশ্য বিদ্যুৎ লাইন থেকে বেআইনি সংযোগ নেওয়া হলেও তা নজরে এল না কেন। বন দফতরের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মেদিনীপুর সদর ব্লকের নেপুরাতেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’টি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

আরও পড়ুন: হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ফেরা হল না নানুরের ঘরছাড়াদের! হামলার অভিযোগ কাজল শেখের অনুগামীদের বিরুদ্ধে

রবিবার সকালে তিন হাতির দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। পিড়াকাটা রেঞ্জের আধিকারিক শুভাশিষ চৌধুরী (Subhashish Chowdhury, Officer of the Pirakata Range) জানিয়েছেন, ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার কড়া হয়। পাশাপাশি, জমিতে ওই বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নজরদারির কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।