কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) চত্বরে পড়ুয়াদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্র শিক্ষার অন্যতম প্রধান এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে হিংসার ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। 

অভিযোগ, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ক্যাম্পাসে অশান্তির সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনায় একাধিক ছাত্রছাত্রী নিগৃহীত ও রক্তাক্ত হন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী স্পষ্ট জানান, পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চলচ্চিত্র সাধনার কেন্দ্রকে ভয় দেখানো কিংবা হিংসা ছড়ানোর আখড়া বানানোর চেষ্টা বাংলার মুক্তচিন্তার ওপর চরম আক্রমণ। মতাদর্শের ভিন্নতা বা দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু চলচ্চিত্র, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার প্রতিষ্ঠানে গুন্ডামি বা হিংসার কোনও জায়গা নেই। 

সত্যজিৎ রায়ের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অস্কারজয়ী এই প্রবাদপ্রতিম স্রষ্টা বাংলা ও দেশকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও তাঁর নামাঙ্কিত এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সত্যজিৎ রায় সমগ্র বিশ্বের সম্পদ, তাই তাঁর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। ঘটনার জেরে প্রতিষ্ঠান চত্বরে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত।