ক্যালেন্ডারের পাতায় এখনও সেপ্টেম্বর (September) শেষ হয়নি, পুজো আসতেও কিছুদিন বাকি। কিন্তু এর মাঝেই আচমকা আবহাওয়ার ভোলবদল! ভ্যাপসা গরম আর ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের বেশ কিছু অংশে আচমকাই নামল পারদ। রাজধানী দিল্লি ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর সবচেয়ে শীতলতম রাত! 

আরও পড়ুন: ভারতমাতাকে অপমান বরদাস্ত নয়: SRFTI-কাণ্ডে কড়া বার্তা উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর, পাল্টা তোপ কুণালের

হঠাৎ এই ঠান্ডা আমেজে ঘরে ঘরে বন্ধ হয়েছে এসি, কমেছে ফ্যানের গতি। আর এই মনোরম পরিবর্তন দেখেই বাঙালির মন উচাটন—তবে কি এবার পুজো কাটতেই জাঁকিয়ে শীত পড়বে? আর এই আগাম ঠান্ডার পেছনে কি রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের সেই খামখেয়ালি ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)? সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধা এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আবহাওয়াবিদরা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন ও কিছুটা উদ্বেগের কথা শোনাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: হিমলুংয়ের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে ভেঙে পড়ল পাহাড়ের একাংশ, হারাল আস্ত গ্রাম!

আবহাওয়াবিদদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই ঠান্ডা রাতের সঙ্গে শীতের আগাম আগমন বা এল নিনোর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। এটি আসলে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী গভীর নিম্নচাপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগে প্রবেশ করা এই নিম্নচাপের জেরে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। একটানা মেঘলা আকাশ, বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিনের বেলার তাপমাত্রা বাড়তে পারেনি, যার ফলেই রাতের দিকে এই শীতকালীন অনুভূতি। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। নিম্নচাপটি দুর্বল হতেই আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে এবং শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা ফের কিছুটা চড়বে।

আরও পড়ুন: “নিজেকে ভালবাসো…” ১৬ লাখ ফলোয়ার্স নিধির মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, পোস্ট ঘিরে রহস্য

বিশ্বের আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি রেকর্ড ভাঙা শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ সক্রিয় রয়েছে, যা গত ১০০০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম তীব্র বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই এল নিনো ২০২৬-এর শেষ এবং ২০২৭-এর শুরুর দিক পর্যন্ত অত্যন্ত শক্তিশালী থাকবে।

সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব কিন্তু বেশ আশঙ্কাজনক। এল নিনোর প্রভাবে এবার শীতের তীব্রতা কমার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ, শীতের মরশুমেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। এমনকি দেশের কোথাও কোথাও তীব্র খরা এবং কোথাও অসময়ে প্রবল বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

আরও পড়ুন: কুণালের আবেদনে তৎপর মানবাধিকার কমিশন, ৩০ সেপ্টেম্বর জরুরি শুনানি

আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, মায়ানমার উপকূলে আরও একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধছে, যা উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোতে পারে। এর জেরে পুজোর আগে বা পুজোর দিনগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তাই সেপ্টেম্বরের এই পঁচিশ বছরের রেকর্ড ভাঙা শীতল রাত দেখে যারা ভাবছেন শীত এবার বঙ্গে আগেই চলে আসছে, তাঁদের জন্য আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বার্তা—“ভুল ভাবছেন, এটি কোনও ঋতু পরিবর্তনের লক্ষণ নয়, বরং মেঘ-বৃষ্টির সাময়িক খেলা মাত্র।” গ্লোবাল ওয়ার্মিং আর সুপার এল নিনোর জোড়া ফলায় আগামী দিনগুলিতে প্রকৃতির রূপ ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই বেশ চিন্তায় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।