সপ্তাহ শুরুর প্রথম দিনেই বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ভারতীয় শেয়ারবাজার। সোমবার বাজার খুলতেই দেখা দিল ধস। বিনিয়োগকারীদের চোখের পলকে উবে গেল প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। এদিন সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে শেয়ার বাজার। একই অবস্থা জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটি-রও। ফলে, ৩৬০.২৫ পয়েন্ট নেমে এনএসই-র এই সূচক দাঁড়িয়ে আছে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে। এই রেকর্ড পতনের জেরে বিগত প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজারের গ্রাফ।

আরও পড়ুন: বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগের বলি তিন হাতি, গ্রেফতার জমির মালিক

ব্রোকারেজ ফার্মগুলির তথ্য অনুযায়ী, এদিন ১.৬ শতাংশ কমেছে নিফটি মিডক্যাপের সূচক। নিফটি স্মলক্যাপ হ্রাস পেয়েছে ১.৮ শতাংশ। সোমবার, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বাধিক লোকসানের মুখ দেখেছেন জ়িয়ো ফিন্যান্সশিয়াল, টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, আদানি এন্টারপ্রাইজেজ এবং আদানি পোর্টসের লগ্নিকারীরা।

আরও পড়ুন: সন্ন্যাস ভুলে গ্ল্যামারাস অবতারে উদ্দাম নাচ! ‘মোক্ষ ছেড়ে মায়ায়’ ফিরে ট্রোলড মমতা কুলকার্নি

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মারাত্মক ধসের পেছনে মূলত কাজ করেছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মূলত ৪টি কারণকেই দায়ী করা হচ্ছে। 

১. আমেরিকা-ইরান সংঘাতের তীব্রতা

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক ডামাডোলের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মানসিকতায়। 

২. ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩.৮১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারত যেহেতু চাহিদার সিংহভাগ তেলই আমদানি করে, তাই অপরিশোধিত তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতি ও বাজারের জন্য বড় ধাক্কা। 

৩. টাকার মূল্যে রেকর্ড পতন

ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার (Rupee) দাম লাগাতার কমছে। সোমবার লেনদেনের শুরুতে টাকার দাম আরও ২৮ পয়সা কমে প্রতি ডলারে ৯৬.০৩ টাকা ছুঁয়ে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। 

আরও পড়ুন: বেঙ্গালুরুতে অবতরণের সময় ইন্ডিগো বিমানে ‘টেল স্ট্রাইক’, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীদের

৪. বিদেশি লগ্নিকারীদের হাত গুটিয়ে নেওয়া (FII Outflows)

বিশ্ব বাজারের এই চরম অস্থিরতার কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে দেদার শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন, যা ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। 

আরও পড়ুন: CBSE- র ষষ্ঠ শ্রেণিতে এখনই নয় তৃতীয় ভাষা, পড়ুয়াদের স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট

এই ধসের জেরে পিএসইউ ব্যাঙ্ক (PSU Banks), মেটাল, এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টরের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সূচক এক দিনেই প্রায় ৩.২৪ শতাংশ পড়েছে। আজকের এই ‘ব্ল্যাক মান্ডে’(Black Monday)-র ধাক্কায় খুচরো বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বড় লগ্নিকারী—সবার পোর্টফোলিওতেই বড়সড় লাল সংকেত দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বাজারের এই চরম অস্থিরতার সময়ে প্যানিক সেলিং বা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে লগ্নিকারীদের আপাতত ‘অপেক্ষা করো এবং পরিস্থিতি দেখো’ নীতি নেওয়া উচিত।