আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে যখন ‘ব্রেকিং নিউজ’ বা সংবাদের রমরমা চারিদিকে, তখন প্রকৃত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যে কতটা ধৈর্য ও নিষ্ঠা দাবি করে, তা আবারও প্রমাণ করলেন রামনাথ গোয়েঙ্কা এবং চামেলি দেবী জৈন পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক রিতিকা চোপড়া। ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চলা ১০ মাসের গোপন অসন্তোষ ও দুই কমিশনারের ১৪ বার আপত্তির ঘটনা সামনে এনে দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে এই খবরের সাফল্যের পেছনে কোন অলৌকিক জাদু ছিল না, ছিল বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম।
আরও পড়ুন: “পা ভাঙা, চোখে ক্ষত!” সুশান্তের ময়নাতদন্ত নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ দিদি শ্বেতার
এক চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিতিকা স্পষ্টভাবে জানান, অনেকেই মনে করেন সাংবাদিকতা মানে হয়তো হঠাৎ কোন খামবন্দি গোপন নথি চলে আসা আর তা ছেপে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে তা একেবারেই হয় না। তিনি বলেন, “আমি দশ বছর ধরে নির্বাচন কমিশন বিট-এ কাজ করছি। এই বড় খবরটি আসলে দীর্ঘদিনের সেই কাজের এবং সোর্স (উৎস) তৈরির একটি সম্মিলিত ফল। যখন আপনি বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করেন, তখন আপনাকে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়। তারপর একটা সময় গিয়ে তাঁরা বিশ্বাস করেন। সবটাই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এবং এই বিশ্বাসটা তখনই জেতা যায় যখন তাঁরা বিশ্বাস করেন যে আপনি কোনও এজেন্ডার হয়ে নয়, শুধুমাত্র তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করেন। আর তখনই উঠে আসে প্রকৃত তথ্য।” তিনি আরও বলেন যে, “ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ফিলোজফিই হল, যেটা ঘটনা সেই সত্যকেই তুলে ধরা সকলের সামনে। আর এই বিশ্বাসটা তৈরি হওয়ার পরেই মানুষ ধীরে ধীরে মন খুলে কথা বলতে পারে।”
আরও পড়ুন: ভাতার পরে বাড়ল খাদ্য বরাদ্দ! অঙ্গনওয়াড়ির উন্নয়নে দরাজহস্ত মুখ্যমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা এবং আইটি সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর আপত্তির খবর প্রকাশ করা সহজ ছিল না। রিতিকা জানান, এই খবরের পেছনে রয়েছে মাসের পর মাস ধরে চলা নিবিড় অনুসন্ধান। শুধু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, প্রতিটি সূত্র মিলিয়ে দেখতে তাকে দিল্লি, মুম্বাই, গোয়া এবং কলকাতার মতো একাধিক শহরে ছুটে বেড়াতে হয়েছে নিখুঁতভাবে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য। কারণ, সাংবাদিকতায় অসত্য বা আংশিক সত্য তথ্যের কোনও জায়গা নেই।
আরও পড়ুন: খেলতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি! ২৫০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে মৃত্যু ৩ বছরের নেহার
কলকাতার মেয়ে রিতিকার এই লড়াই আজ সারা দেশের তরুণ সাংবাদিকদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। এই দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া মনে করিয়ে দেয় যে, একটি হেডলাইনের আড়ালে ঢাকা থাকে এক সাংবাদিকের বিনিদ্র রজনী এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা লাইক আর ভিউ-এর জমানায় রিতিকা চোপড়ার এই তদন্ত এবং অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে—মেরুদণ্ড সোজা রেখে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার নামই আসল সাংবাদিকতা, যা কোন শর্টকাটে বা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়।
















