খেলতে খেলতেই ভয়াবহ বিপদ! গভীর কুয়োয় পড়ে মৃত্যু বছর তিনেকের এক শিশুর। সোমবার সকালে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় হরিয়ানার ফরিদাবাদের (Faridabad, Haryana) সিহি গ্রামে। প্রায় ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পর কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হয় নেহাকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছেই একটি কুয়োর পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি ট্র্যাক্টরের উপরে কয়েকজন শিশু খেলছিল। আচমকাই ট্র্যাক্টর থেকে পা পিছলে গভীর কুয়োয় পড়ে যায় নেহা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং হরিয়ানা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) সদস্যরা। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকরাও। কুয়োর ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় শক্তিশালী আলো এবং বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

উদ্ধারকারী দলের দাবি, কুয়োটির গভীরতা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট। প্রায় ১২৫ ফুট গভীরতায় জল ছিল। উদ্ধারকারীদের দাবি, অভিযান চলাকালীন কুয়োর গভীরতা থেকে শিশুটির কান্নার শব্দও শোনা গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি অনুকূল না থাকার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টার পর সোমবার ভোর চারটে নাগাদ নেহাকে কুয়ো থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। NDRF-এর ডেপুটি কম্যান্ডার কুনাল তেওয়ারি জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। রাত পৌনে ৮টার দিকে কন্ট্রোল রুম থেকে তারা খবর পান। খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। NDRF-এর পাশাপাশি হরিয়ানা SDRF, রাজ্য পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকরাও অভিযানে যোগ দেন। প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ঘটনার পর নেহার বাবার অভিযোগ, কুয়োটি ফরিদাবাদ পুরসভার আওতাধীন এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁর আরও দাবি, কয়েকদিন আগেই কুয়োটির মুখে থাকা ঢাকনাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এরপরই এমন দুর্ঘটনা ঘটল। তবে কুয়োর ঢাকনা সরানো এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার অভিযোগ নিয়ে এখনও ফরিদাবাদ পুরসভার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিনের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বিপজ্জনক ও পরিত্যক্ত কুয়ো, জলাধার বা গর্তগুলিকে আগে থেকেই চিহ্নিত করে সেগুলি ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। নেহার মৃত্যুর ঘটনায় সেই ব্যবস্থাপনায় কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।