সিবিএসই-র (CBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের পাঠক্রমের তৃতীয় ভাষা নিয়ে আপাতত বড় স্বস্তি দিল শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন ভাষানীতি কার্যকর করার পক্ষে থাকলেও সেই অবস্থান পুরোপুরি মানল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের মতোই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরও তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী বছর ১ এপ্রিল থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলেছে আদালত।

আরও পড়ুন: সন্ন্যাস ভুলে গ্ল্যামারাস অবতারে উদ্দাম নাচ! ‘মোক্ষ ছেড়ে মায়ায়’ ফিরে ট্রোলড মমতা কুলকার্নি

মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, দেশের প্রায় ২,৮০০টি সিবিএসই স্কুলের মধ্যে ৯৯ শতাংশের কাছেই তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকাঠামো রয়েছে। তাঁর দাবি, মাত্র ১.২ শতাংশ স্কুলে এখনও সমস্যা রয়েছে। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন নিয়ম চালু রাখার পক্ষে কেন্দ্র।

কিন্তু আদালতের বক্তব্য, শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের ওপর হঠাৎ নতুন ভাষা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরও একই সুবিধা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, নতুন নিয়মের কারণে শিশুদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলতে চায় না আদালত। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্তও মামলাকারী স্কুলগুলির সমস্যা খতিয়ে দেখতে সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে কমিটি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরেই শীতলতম রাত! ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল ‘সুপার এল নিনো’

তবে অভিভাবকদের পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি, যে পড়ুয়ারা চতুর্থ শ্রেণি থেকে একটি ভাষা শিখে আসছে, তাদের হঠাৎ অন্য ভাষা বেছে নিতে বলা হলে লেখাপড়ায় চাপ তৈরি হচ্ছে। দিল্লি পাবলিক স্কুলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, বহু পড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে স্প্যানিশ পড়লেও এখন তাদের সংস্কৃত বেছে নিতে বলা হচ্ছে।

ভাষার পাশাপাশি বই নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের দাবি, প্রয়োজনীয় বই বাজারে ও অনলাইনে রয়েছে। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীদের অভিযোগ, অনেক পড়ুয়ার হাতে এখনও ছাপানো বই পৌঁছয়নি। মূলত অনলাইনেই বই পাওয়া যাচ্ছে। নতুন ফ্রেমওয়ার্কে ইংরেজিকে অ-দেশীয় বা বিদেশি ভাষার তালিকায় রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকদের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এবং দেশের আদালত-সহ সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইংরেজির ব্যবহার রয়েছে।

আদালত অবশ্য আপাতত গোটা ভাষানীতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বৃহত্তর আইনি প্রশ্নগুলি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। আগামী ছ'সপ্তাহের জন্য মামলার শুনানি মুলতুবি করা হয়েছে। এর মধ্যে চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও সিবিএসই-কে পাল্টা হলফনামা দিতে হবে এবং পরের দুই সপ্তাহে আবেদনকারীরা তাঁদের জবাব জমা দেবেন।