বর্তমান সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরদের একটা বিশাল ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয়। তাঁদের এক একটা পোস্ট ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে উত্তেজনা থাকে তীব্র। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে ফলোয়ার্সের সংখ্যাও। এমনই এক ইনফ্লুয়েন্সর ও মডেল নিধি তিওয়ারির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নেটদুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলার মোরওয়া থানা এলাকার ভুসা মোড়ের বাসিন্দা, ৩০ বছর বয়সী নিধির আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এবং লক্ষ লক্ষ অনুরাগী স্তব্ধ। মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর ফেসবুক ওয়ালে করা একটি ‘রহস্যময়’ পোস্ট এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: কুণালের আবেদনে তৎপর মানবাধিকার কমিশন, ৩০ সেপ্টেম্বর জরুরি শুনানি
মৃত্যুর ঠিক আগে নিজের দুটি ছবি পোস্ট করে নিধি লিখেছিলেন, “এই অসম্পূর্ণ হৃদয়কে কেউ পূর্ণ করেনি, আমি নিজেই নিজেকে পূর্ণ করেছি। এই জন্য বলা হয়, নিজেকে ভালোবাসো, অন্য কাউকে নয়। নিজের মধ্যে নিজেকে খুঁজে নাও। অন্যের মাঝে নিজেকে আর কতদিন খুঁজবে?” জীবনকে ভালোবাসার বার্তা দিয়ে করা তাঁর এই পোস্টই যে শেষ পর্যন্ত বিদায়ের চিঠি হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁর অনুরাগীরা।
আরও পড়ুন: ১৮-র নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
মডেলিং, বিভিন্ন ইভেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন নিধি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল—ফেসবুকে প্রায় ৯ লক্ষ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ তাঁকে ফলো করতেন। ২০২৪ সালে ‘মিস প্রিটি ইন্ডিয়া’ খেতাব জয়ের পর মডেলিং এবং অভিনয়ে নিজের কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। নিয়মিত রিলস ও সুন্দর ছবি পোস্ট করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময়ই চর্চায় থাকতেন।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ গদ্দার: কালো কালিতে ছয়লাপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আগরার বাড়ি
নিধির মা লতা তিওয়ারির দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার রাতে দিল্লির বাসিন্দা সোনু সিং নামের এক যুবকের সঙ্গে ফোনে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছিল নিধির। ঝগড়ার পর নিধি নিজের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন। বাড়ির লোক তাঁকে রাতে খাওয়ার জন্য ডাকলেও তিনি দরজা খোলেননি, উল্টে তাঁকে একা ছেড়ে দিতে বলেন। এরপরই তিনি ফেসবুকে ওই আবেগঘন পোস্টটি করেন। পরদিন রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও দরজা না খোলায় পরিবারের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে নিধির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: পুজোয় চাই উপচে পড়া গ্লো? দারচিনির সঙ্গে এই ২টি জিনিস মিশালেই কেল্লাফতে!
“অন্যকাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসা উচিত।” বিদায়বেলায়ও নিধির এই জীবনপাঠ আমাদের অনেক কিছুই শিখিয়ে গেল। তবে প্রেমে আঘাত নাকি অন্যকিছু তা বোঝা না গেলেও এর উত্তর খুঁজছেন কাছের মানুষ এবং অনুরাগীমহল। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ফোনের কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং আরও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
















