অনুষ্কা শর্মার (Anushka Sharma) একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট (Instagram Post) এবং ফোনেই রাতারাতি বদলে গেল মুম্বইয়ের দুই ভাইয়ের ভাগ্য! মাথায় ১৮ লক্ষ টাকার বিপুল ঋণ আর ধুঁকতে থাকা ব্যবসা নিয়ে যখন চরম দিশেহারা দুই যুবক, ঠিক তখনই ২০২২ সালের ৫ অক্টোবরের একটি ঘটনা মিরাকেলের মতো কাজ করেছিল তাঁদের জীবনে। স্বামী বিরাট কোহলির জন্য দিল্লির বিখ্যাত ‘ছোলে ভাটুরে’র স্বাদ মুম্বইয়ে খুঁজতে গিয়েই অজান্তে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা।
আরও পড়ুন: ৮ থেকে ৮০-মঞ্চ কাঁপাবে সবাই! আসছে নতুন ডান্স রিয়্যালিটি শো
ভাগ্য কখন, কীভাবে কার দরজায় এসে কড়া নাড়বে, তা কেউ বলতে পারে না। ঠিক যেমনটা ভাবেননি মুম্বইয়ের দুই ভাই। মাথায় তখন প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা। দোকান খুলে বসে থাকলেও খদ্দেরের দেখা নেই। ঠিকমতো বিক্রিবাট্টা না হওয়ায় প্রতিদিন লোকসান বাড়ছিল। ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ৫ অক্টোবরের একটা ফোন আর একটা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তাঁদের জীবনকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিল! নেপথ্যে ছিলেন স্বয়ং বলিউড ডিভা অনুষ্কা শর্মা।
গল্পের শুরুটা ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে নিয়ে। দিল্লির বিখ্যাত ‘ছোলে ভাটুরে’র প্রতি বিরাটের চরম ভালোবাসার কথা কারও অজানা নয়। মুম্বইয়ে থাকলেও বিরাট প্রায়ই দিল্লির সেই চেনা স্বাদ মিস করতেন। স্বামীর রসনাতৃপ্তি করার জন্য মুম্বইয়ের বুকেই দিল্লির খাঁটি স্বাদের ছোলে ভাটুরে খুঁজছিলেন অনুষ্কা শর্মা। ঠিক সেই সময়েই স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অভিষেক উপমন্যুর একটি রিভিউ বা প্রশংসার সূত্রে অনুষ্কা খোঁজ পান মুম্বইয়ের এক কোণায় থাকা ছোট্ট একটি আউটলেট ‘দিল্লি সে’ (Delhi Se)-র কথা।
আরও পড়ুন: কমিশনে নয় আইপিএলে থাকা উচিত জ্ঞানেশের, চরম কটাক্ষ সিজেপির
২০২২ সালের ৫ অক্টোবরের সেই মাহেন্দ্রে ক্ষণে অনুষ্কা শর্মা নিজেই উদ্যোগ নিয়ে ওই দোকানে ফোন করেন এবং বিরাট কোহলির জন্য ‘ছোলে ভাটুরে’ অর্ডার করেন। খাবার তৈরি করে বিরাটের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘরের ডাইনিং টেবিলে বসেই দিল্লির আসল স্বাদ পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন সস্ত্রীক বিরাট কোহলি।
খাবারের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে অনুষ্কা শর্মা তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে সেই ছোলে ভাটুরের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “আজ বিরাটকে মুম্বইয়ে দিল্লির সেরা ছোলে ভাটুরে খাইয়ে অত্যন্ত খুশি করতে পেরেছি।” সেই সঙ্গে তিনি ওই ছোট্ট দোকানটির নামও উল্লেখ করে দেন।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর ‘মৃত্যুকামনা’! হুমায়ুনের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি
ব্যস, সেলিব্রিটি দম্পতির এই সামান্য প্রশংসাই ওই দুই যুবকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসে। অনুষ্কার সেই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি। পরদিন সকাল থেকেই মুম্বইয়ের ওই ছোট্ট দোকানের সামনে উপচে পড়ে সাধারণ মানুষ থেকে ফুড ব্লগারদের ভিড়। প্রত্যেকেই পরখ করতে চান— কী এমন জাদু আছে এই খাবারে, যা স্বয়ং কিং কোহলিকে মুগ্ধ করেছে!
আরও পড়ুন: চার বছরের বিশ্বাসে চিড়! পরিচারিকার বিরুদ্ধে কোটি টাকা ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগ
দিনে যেখানে সামান্য কিছু টাকার বিক্রি হত না, সেখানে হুহু করে বাড়তে থাকে অর্ডার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গ্রাহকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় দোকানের কর্মচারীদের। এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি দুই ভাই জাসপাল সিং খালসা এবং মহিন্দর সিং খালসাকে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দোকানের সমস্ত দেনা ও ১৮ লক্ষ টাকার ঋণ শোধ করে দেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের ব্যবসা দারুণ সফল এবং তাঁরা নিজেদের একটি বড় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।
একটি মাত্র ফোন কল এবং একটি খাঁটি রিভিউ কীভাবে সাধারণ মানুষের সততা ও পরিশ্রমের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, অনুষ্কা শর্মা ও মুম্বইয়ের এই দুই ভাইয়ের গল্প তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
















