বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত কাল হল! নৈহাটিতে (Naihati) অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মী ও তাঁর অসুস্থ বোনকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিচারিকার বিরুদ্ধে উঠল বিপুল টাকা ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগ। ঘটনায় পরিচারিকা বর্ণালী মৃধা (Barnali Mridha) এবং তাঁর স্বামী শম্ভু মৃধাকে (Shambhu Mridha) গ্রেফতার করেছে নৈহাটি থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: ট্র্যাফিক জ্যামে ২ ঘণ্টা আটকে বাস, ভারতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানামা কোচ

স্টেশনের কাছের রেল কোয়ার্টারে থাকতেন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গেই থাকতেন বোন শিখা চক্রবর্তী। দু’জনেরই শারীরিক অসুস্থতা থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং দেখভালের জন্য প্রায় চার বছর আগে বর্ণালীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাঁচরাপাড়ার বাবু ব্লক এলাকার বাসিন্দা ওই পরিচারিকা ধীরে ধীরে পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: দেখে নিন কোন শহরে কত দাম পেট্রোল ডিজেলের

অভিযোগ, সেই ঘনিষ্ঠতা এবং বিশ্বাসের সুযোগই কাজে লাগানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, বিশ্বনাথের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বর্ণালীর কাছেই থাকত। এমনকি তাঁর এটিএম কার্ড এবং সই করা চেকবইও ছিল পরিচারিকার হেফাজতে। অভিযোগ, সেখান থেকেই ধাপে ধাপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া শুরু হয়। এই কাজে বর্ণালীর স্বামী শম্ভুও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হিসেব মেলাতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের দাবি, অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। শুধু নগদ অর্থ নয়, শিখা চক্রবর্তীর বেশ কিছু সোনার গয়নাও খোয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। এরপরই নৈহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ণালী ও শম্ভুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো চিত্রটি জানার চেষ্টা চলছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পুরনো লেনদেন, চেকের ব্যবহার এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই দিকটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।