টলিউডের বহুল চর্চিত ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ তকমা ঝেড়ে ফেলে অবশেষে রুপোলি পর্দায় ফিরছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। টলিপাড়ার সুপারস্টার তথা সাংসদ দেবের আগামী ছবি ‘দেশু ৭’ (DeSu7)-এর হাত ধরেই তাঁর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটছে। তবে শুধু অভিনেতা দেব নয়, এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন দেব। আর দেবের পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা নিয়েই সম্প্রতি মুখ খুললেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যেখানে তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে এক বড় চ্যালেঞ্জের কথা।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে 'INDIA' বৈঠকে যাবেন, রং বিভেদ ভুলে বিরোধী- ঐক্যের ডাক মমতার

আসন্ন পুজোতেই মুক্তি পেতে চলেছে মেগা প্রজেক্ট ‘দেশু ৭’, এবং ইতিমধ্যেই অনির্বাণের লুক প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এই ছবিতে কাজ করার ক্ষেত্রে অভিনেতার কাছে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এবং চ্যালেঞ্জের জায়গা ছিল দেবের পরিচালনা। এর আগে অপর্ণা সেনের ‘আরশিনগর’, কিংবা ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গোলন্দাজ’ ও ‘রঘু ডাকাত’-এর মতো ছবিতে সহ-অভিনেতা হিসেবে দেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন অনির্বাণ। কিন্তু এবার সমীকরণটা একেবারেই আলাদা। কারণ, ক্যামেরার সামনে নয়, দেব এবার রয়েছেন ক্যামেরার পিছনে, নির্দেশকের আসনে।

আরও পড়ুন: ধারাবাহিকের শুরুতেই বিয়ে! বাস্তবে নিজের ‘সাত পাক’ নিয়ে কী প্ল্যান মোহনার

দেবের পরিচালনায় প্রথমবার কাজ করা নিয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্য জানান, তাঁর কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা তথা সুপারস্টার দেবকে পরিচালক হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। তবে দেব ও তাঁর পুরো ক্রিয়েটিভ টিমের ওপর যে তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা। দেবের প্রথম পরিচালনার অংশ হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও উত্তেজিত। 

আরও পড়ুন: আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব: চ্যালেঞ্জ মমতার, সভা থেকে ‘ভ্যানিশ কুমার’কে তীব্র খোঁচা

‘দেশু ৭’ ছবিতে দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় জুটিকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে। এই জনপ্রিয় জুটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যে বিপুল উন্মাদনা রয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে নিজের ভালোলাগার কথা প্রকাশ করেছেন অনির্বাণ। ছবিতে অনির্বাণকে একটি অত্যন্ত চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাস্ট করা হয়েছে। অফিসিয়াল ট্রেলারে অনির্বাণের একটি ডায়লগ রীতিমত ভাইরাল যেখানে তিনি বলছেন, “ইতিহাস সাক্ষী রাজনীতি আর ভালবাসা পরস্পরের বিপরীত।”

আরও পড়ুন: 'ভোট চোর’! জ্ঞানেশকে নিয়ে প্যারোডি বামেদের

টলিউডের অন্দরে ফেডারেশন ও অনির্বাণের আইনি লড়াইয়ের জেরে দীর্ঘদিন তাঁর কাজ পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির এই ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন স্বয়ং দেব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, অনির্বাণের মতো প্রতিভাবান অভিনেতাকে বসিয়ে রাখা মানে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করা। সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেব নিজের ছবিতে অনির্বাণকে কাস্ট করেন এবং আর্টিস্ট ফোরাম ও টেকনিশিয়ানদের সহযোগিতায় তাঁকে ফ্লোরে ফেরান।

এই প্রসঙ্গে অনির্বাণ জানান, সংগঠনের ভেতরের বৈঠক বা ব্যান সংস্কৃতির নিষ্পত্তি কীভাবে হবে তা সংগঠনের সদস্যরাই ভালো বলতে পারবেন, কারণ তিনি এই ধরনের বৈঠকে উপস্থিত থাকেন না। তবে তিনি আপাতত সমস্ত বিতর্ক ভুলে নিজের অভিনয়ে ফোকাস করতে চান। 

সব মিলিয়ে, দেবের পরিচালনা এবং অনির্বাণের তুখোড় অভিনয়ের যুগলবন্দী রুপোলি পর্দায় কতটা ধামাকা তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সিনেপ্রেমীরা।