সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির বহুপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ (Love & War)-এর কেন্দ্রীয় তিনটি চরিত্রের পোস্টার (Poster)। সেখানে আলিয়া ভাট এবং রণবীর কাপুরের লুক সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ প্রশংসা কুড়ালেও, অভিনেতা ভিকি কৌশলের পোস্টারটি ঘিরেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। পোস্টারটিতে ভিকিকে অত্যন্ত স্টাইলিশ কায়দায় ধূমপান করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: উজ্জয়িনীতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা! পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ—পাল্টা পাথরবৃষ্টি

সিনেমা শুরুর আগে প্রেক্ষাগৃহের বড় পর্দায় ফুসফুসের ক্যানসার কিংবা তামাকবিরোধী বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ আজ আর কারও অজানা নয়। কিন্তু সিনেমার মূল প্রচারের হাতিয়ার, অর্থাৎ ফার্স্ট লুক পোস্টারেই যদি দেশের প্রথম সারির নায়কদের ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট বা চুরুট দেখা যায়, তবে সেই সতর্কবার্তার কার্যকারিতা কতটুকু থাকে? সম্প্রতি বিনোদন জগতে এই জরুরি প্রশ্নটিই তুলে দিয়েছেন বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত (Sanjay Gupta)। আর তাঁর এই যুক্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

আরও পড়ুন: ঋতব্রতদের পদ খারিজের আবেদন খারিজ, স্পিকারকে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভিকি কৌশলের এই ছবিটির পরেই তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি শুধু ভিকি নন, সাম্প্রতিক সময়ের আরও দুই বড় সিনেমার পোস্টারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিম্যাল’ (Animal) সিনেমায় রণবীর কাপুরের রক্তমাখা শরীরে সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য এবং ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-এ রণবীর সিংয়ের চুরুট টানার পোস্টার— সব কটি ছবি একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। সঞ্জয় গুপ্তের স্পষ্ট কথা, “পোস্টারেই যদি নায়কদের এই ধরনের ছবি প্রমোট করা হয়, তবে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা শুরুর আগে অ্যান্টি-স্মোকিং বিজ্ঞাপন চালিয়ে আদতে লাভটা কী হচ্ছে?”

আরও পড়ুন: কোথায় কত দামে মিলছে পেট্রোল ডিজেল দেখে নিন এক নজরে

এই সমসাময়িক বিতর্কটি দেশের একটি বৃহত্তর এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়কে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চ থেকে দেশের যুবসমাজের প্রতি সিনেমা তারকাদের দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি সিনেমা জগতের তারকাদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, এ দেশের তরুণ প্রজন্ম তারকাদের অন্ধভাবে অনুকরণ করে। তাই তাঁদের এমন কোনও ক্ষতিকারক বস্তু বা অভ্যাসের প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: কত দর আজ সোনা রুপোর দেখে নিন এক নজরে

চলচ্চিত্র প্রেমীদের একাংশের মতে, সিনেমার গল্প বা চরিত্রের প্রয়োজনে ধূমপানের দৃশ্য থাকতেই পারে, কারণ এটি শিল্পের স্বাধীনতার (Creative Freedom) অংশ। কিন্তু পাল্টা যুক্তিতে অনেকেই বলছেন, সিনেমার ভেতরের দৃশ্য আর বাইরে জনসমক্ষে ঝুলিয়ে রাখা প্রচারের পোস্টার— দুটো এক বিষয় নয়। পোস্টার দেখেই তরুণরা আকৃষ্ট হয় এবং তামাকের মতো মারণ নেশাকে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ (Style Statement) হিসেবে ভুল করতে শুরু করে।

বলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে এই ‘ধূমপান বিতর্ক’ আরও একবার প্রমাণ করল যে, রুপোলি পর্দার তারকাদের শুধু বক্স অফিস সফল করার তাগিদ থাকলেই চলে না, তাঁদের সামাজিক দায়িত্বের কাঁটা কম্পাসটিও ঠিক থাকা প্রয়োজন। সিনেমা নির্মাতারা আগামী দিনে এই বিষয়ে কতটা সংবেদনশীল হন, এখন সেটাই দেখার।