রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর (Kolkata Durga Puja Parikrama) পাস বিক্রি নিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতরে (Enforcement Directorate) হাজিরা দিতে হবে সঙ্গীত শিল্পীকে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় তাঁকে কলকাতার ED দফতরে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইন্দ্রনীল। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা ধরে প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। 

কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর পুজো পরিক্রমার নামে নিজের স্ত্রীর সংস্থার মাধ্যমে ভুয়ো পাস বিক্রি করে ৫০-৬০ কোটি টাকা তছরুপ করার অভিযোগ রয়েছে সংগীত শিল্পী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে অভিযানে নামে ইডি। ইন্দ্রনীলের কসবার বাড়ি, সিঙ্গুরের বাগান বাড়ি, তাঁর আত্মীয়দের বাড়ির পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর পঞ্চসায়রের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারীরা। হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও হানা দেয় ইডি। চলতি বছরের জুন মাসে পাস দুর্নীতি নিয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। 

শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুয়ো পাস বিক্রিতে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। ২০২১ সালে কলকাতা দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই মধুছন্দার 'মাস আর্ট' সংগঠন নিজেদের ইউনেস্কোর (UNESCO) অফিসিয়াল পার্টনার বলে দাবি করে দুর্গা পুজোর প্রচারের নামে চড়া দামে পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি করে বলে অভিযোগ। মানুষের বিশ্বাস জিততে টিকিটে বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ও লোগোও নাকি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার প্রায় সাড়ে পনেরো ঘণ্টা ধরে প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চলেছে। আজ ইন্দ্রনীল হাজিরা দেন কিনা সেটাই দেখার।