আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। মুরলীধর সেন স্ট্রিটে রাজ্য দফতরের অফিসে তাঁকে স্বাগত জানালেন শশী অগ্নিহোত্রী। রবিবারই রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে টলি অভিনেত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বিজেপি।
বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়া কোয়েল এবার পদ্ম টিকিটে ফের উচ্চকক্ষে ফেরার খবরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনেই ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। আর ভোটই বিজেপির প্রার্থী কোয়েল। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন কোয়েল।
বিজপির পতাকা হাতে নিয়েই রাজ্য সরকারের উন্নয়নের জয়গান গাইলেন টলি অভিনেত্রী। কোয়েল বলেন, “প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি নেতৃত্বকে আমাকে রাজ্যসভায় পাঠানো জন্য।রাজ্য সভার প্রার্থী হতে পেরে গর্বিত। গত ৫ মাসে রাজ্যে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। বিগত কয়েক মাসে রাজ্যের উন্নয়নের যাত্রা চলছে।বাংলার উন্নয়নে যুক্ত থাকতে চাই। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গে আরও কাজ আসুক।”
এর আগে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করার কথা বলেছিলেন। ফুল বদলের পরও কোয়েলের মুখে একই কথা কাহিনী। রঞ্জিত কন্যা বলেন, “ছোট বেলা থেকে আমি সেবাটা জানি। ছোট থেকেই আমাকে মা শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষের সেবা করতে হয়। গরমের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার বদলে আমাকে অনাথ আশ্রমে মা নিয়ে যেতেন সেখানে মানুষের সেবায় অনেকটা সময় কাটত। ছোট বেলা থেকে খবরের কাগজে পড়েছি এটা হলে ভালো হত, এটা আরও একটু ভালো হতে পারত। কত ইশ ইশ ইশ থেকে গিয়েছে। সেই ইশ গুলো কমানো যায় রাজনীতি এলে। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা যায়।”
অতীতে তৃণমূলে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, এই প্রশ্নের জবাব কার্যত এড়িয়ে যান তিনি। তাঁর কথায়, “কোনওদিন কাউকে নিয়ে কোনও খারাপ মন্তব্য করেননি। ভবিষ্যতেও করবেন না বলেই দাবি কোয়েলের। তিনি বললেন, কারোর নামে খারাপ মন্তব্য করব না। সব রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো কাজ করেছে। আমি এমন একটা দলে যোগ দিলাম যারা মানুষের জন্য কাজ করে বিগত ৫ মাসে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। ”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন এবং ৬ এপ্রিল শপথ নেন। সেই সময় তিনি ছিলেন তৃণমূলের চার রাজ্যসভা প্রার্থীর অন্যতম। কিন্তু সেই রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল।















