খাস কলকাতার অভিজাত হোটেলের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদকচক্র ও রেভ পার্টির পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। রবিবার সকালে মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকার একটি নামী হোটেলে যৌথভাবে এই বড়সড় অভিযান চালায় এসটিএফ এবং মাদকবিরোধী শাখা (Narcotics Cell)। হোটেলের একটি বিলাসবহুল ‘পার্টি স্যুট’ থেকে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কীভাবে দগ্ধ হলেন বাইরন? জানালেন বিধায়কের ভাই
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই খবর আসছিল যে পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার নামী পাঁচতারা হোটেলের আড়ালে তরুণ-তরুণীদের কাছে কোকেন ও অন্যান্য উচ্চমানের মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। উইকএন্ড বা ছুটির দিনগুলিতে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সেখানে বন্ধ দরজার পেছনে অবৈধ পার্টিও চলছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রবিবার সাতসকালে রাজপথের ওই অভিজাত হোটেলের ষষ্ঠ তলার একটি লাক্সারি ‘পার্টি স্যুটে’ হানা দেন গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুন: ইতিহাসচর্চায় পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে রাজ্যস্তরের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন লোকভবনের
যে সময় এসটিএফ এবং নারকোটিক্স সেলের দল ওই স্যুটে প্রবেশ করে, তখন সেখানে রীতিমতো মাদকের আসর বসেছিল। পুলিশ পুরো জায়গাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে এবং সেখান থেকে প্যাকেটজাত বিপুল অবৈধ মাদক বাজেয়াপ্ত করে। ওই পার্টি স্যুটে উপস্থিত ২০ জনকে তৎক্ষণাৎ হেফাজতে নেয় পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারা মাদক পাচারকারী (Peddlers) এবং কারা তা সেবন করতে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বিগ বস বাংলা’র দুর্গে বড় ধামাকা! রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় মুখোমুখি সৌরভ-প্রসেনজিৎ
অভিজাত এই হোটেলের ভেতরে কীভাবে বহিরাগতরা এত মাদক নিয়ে প্রবেশ করল এবং দিনের পর দিন কীভাবে রেভ পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মী বা ম্যানেজমেন্টের কেউ এই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, অথবা সিসিটিভি ফুটেজ এড়িয়ে কীভাবে এই কাজ হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে শেক্সপিয়র সরণি থানা ও এসটিএফ।
আরও পড়ুন: কোন শহরে কত দাম পেট্রোল ডিজেলের দেখে নিন এক নজরে
কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং গুণগত মান দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে কোন বড় আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল চাঁইদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।” ধৃতদের বয়ান এবং মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে কলকাতার অন্যান্য কোন কোন জায়গায় এই মাদকের জাল ছড়িয়ে রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
এই বড়সড় পুলিশি অ্যাকশনের পর কলকাতার নাইটলাইফ ও অভিজাত হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে মহানগরীতে।















