আগামী নভেম্বর মাসের শেষেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা। প্রশাসনিক স্তরে ভোটের প্রস্তুতি ক্রমশ গতি পেলেও, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ দানা বাঁধছে শহরের নাগরিক মহলে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় জমা পড়া প্রায় ৬৮ হাজার ভোটারের আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার মুখে বিপুল সংখ্যক নাগরিক নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণ জেলা মিলিয়ে মোট ৬৯,৪৭৮টি সংশোধন সংক্রান্ত আপিল জমা পড়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১,৮১১টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, এখনও ৬৭,৬৬৭টি আবেদন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতা দক্ষিণ নির্বাচনী জেলায় পরিস্থিতির চাপ তুলনামূলক বেশি। সেখানে ৩৯,৮৫০টি আপিলের মধ্যে সমাধান হয়েছে মাত্র ৮২৯টির। এখনও ঝুলে রয়েছে ৩৯,০২১টি আবেদন। অন্য দিকে, কলকাতা উত্তর জেলাতেও মোট ২৯,৬২৮টি আবেদনের মধ্যে এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৮২টির। সেখানে এখনও ২৮,৬৪৬টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। ভোটের আগে এই বিপুল বকেয়া কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই জটিলতার মাঝেই পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও সমান্তরাল ভাবে চলছে। শহরের ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। এই পুনর্গঠিত পরিকাঠামোর ভিত্তিতে পোলিং বুথগুলির সীমানা নির্ধারণে সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে বৈঠকে বসেন ১৬ জন মিউনিসিপ্যাল রিটার্নিং অফিসার। নির্দেশ অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) ভোটারদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের তথ্য পরিবর্তিত হয়েছে তাঁদের শনাক্ত করতে সমস্যা না হয়।

তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, যেখানে প্রায় ৬৮ হাজার আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে, সেখানে নতুন বিন্যাসের সঙ্গে বুথভিত্তিক ভোটার তালিকার সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ। নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্ত বকেয়া আপিলের নিষ্পত্তি না হলে বহু বৈধ নাগরিক ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন কতটা দ্রুত এই জট কাটাতে পারে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে কলকাতা।