বর্ষা বিদায়ের মুখে শহরে ডেঙ্গি সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াতেই কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল খোদ শাসক শিবিরের অন্দর থেকেই। কেবল প্রচার বা সাংবাদিক বৈঠক করে ডেঙ্গির মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করলেন বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যে ধরনের সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, পুর প্রশাসনের একাংশের মধ্যে তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজি) বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে মুর্শিদাবাদের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। শহরের এমন পরিস্থিতিতে পুরসভার দৈনন্দিন কাজের গতি বাড়ানো উচিত ছিল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বিধায়কের বক্তব্য, আসল কাজ ছেড়ে আধিকারিকদের একাংশ লোকদেখানো প্রচার ও প্রচারমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কিন্তু মাটিতে নেমে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ কমানো অসম্ভব।
অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত মশা মারার তেল ও কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে না। জমা জল সরানোর ক্ষেত্রেও নজরদারির অভাব স্পষ্ট। স্বাস্থ্য ও জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা জরুরি ছিল। বিধায়কের দাবি, মাঠপর্যায়ের কাজের চেয়ে নথিপত্র এবং তথ্যের পরিসংখ্যানে জোর দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটতে থাকায় দ্রুত নিবিড় সাফাই অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যদিও পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, শহরের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা ও সচেতনতার কাজ করছেন। তবে শাসক দলেরই এক জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় পুরসভার ডেঙ্গি মোকাবিলা কৌশল নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।















