রাজধানীতে জ্ঞানেশ বিরোধী প্রতিবাদ-বিক্ষোভে মহিলা সাংবাদিককে শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে নাদিম আহমেদ নামে চব্বিশ বছরের ইউটিউবারকে গ্রেফতার করলে দিল্লি পুলিশ। গত ৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA) ও অন্যান্য সংগঠনের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন তিন মহিলা সাংবাদিককে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে।অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় কর্তব্যরত দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করেন। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। দিল্লি পুলিশের দাবি AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভিডিও বানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাড়িতে একা পেয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণ! গ্রেফতার ১
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠতেই গোটা দেশ জুড়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। এই আবহে যন্তর মন্তরে বাম সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিলে যেভাবে দিল্লি পুলিশ মহিলাদের টেনে হিঁচড়ে আটক করেছে তাতে আরও একবার রাজধানীর বুকে উর্দিধারিদের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। আক্রান্ত সাংবাদিকের অভিযোগ অনুযায়ী, অশালীন আচরণ করেছিলেন যে পুলিশকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, ঘটনার পরপরই তাঁকে প্রমোশন দিয়েছে। এই পদোন্নতির বিষয়টি সামনে আসায় গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এহেন পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP) বিবেক ভগতের (Vivek Bhagat) পদোন্নতির নির্দেশিকা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে এক ইউটিউবারকে গ্রেফতার করে দাবি করা হল যে, পুলিশকর্তার হাতে সাংবাদিকের শ্লীলতাহানির যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের ঘটনার নথির ভিডিও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে সমস্ত ছবি-ভিডিয়োর সঙ্গে ‘নিউজ় আয়না’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের কোনও না কোনও ভাবে যোগাযোগ রয়েছে। হরিয়ানার বাসিন্দা ধৃত নাদিমই চ্যানেলটি চালান। এটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৈরি হয়। এখন প্রায় ২৪ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে নাদিম দিল্লির সাকেত এলাকার এক মাদ্রাসায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। জেরার মুখে নাদিম নাকি স্বীকার করেছেন যে দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তিনি ভুয়ো ভিডিও বানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















