এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ নির্বাচন কমিশনের (ECI) সমালোচনার সরব প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা (Ashok Lavasa)। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তিন সদস্যের কমিটির মধ্যে দুজনের আপত্তি সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একাই নিয়ে নিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court)। এই আবহে লাভাসার মন্তব্য যেন প্রতিবাদের আগুনে নতুন করে রসদ জুগিয়েছে। প্রাক্তন কমিশনার প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিহারের নির্বাচনের মুখেই ২০০৩ সালের আগে ও পরে তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম নতুন করে তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হল? কী এমন প্রয়োজন পড়লো যার জন্য স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রস্তুত করা ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত তালিকায় বদলের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন?
বাংলা,বিহার, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাম বাদ দেওয়া ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। কার নির্দেশে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে একচ্ছত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সে প্রশ্নের জবাব চেয়ে আজ সরব হয়েছে গোটা দেশ। জেন জি (Gen Z) থেকে সংসদের বিরোধী নেতারা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এবার প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা বলছেন, অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায় বাতিল করা প্রয়োজন। তাঁর মতে ইসির (EC) উচিত সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন ভোটার ম্যাপিং এবং যুক্তিগত যে অসংগতি এগুলো সব এখনও পর্যন্ত ব্যাখ্যার আড়ালে রয়ে গিয়েছে। এই সত্য সকলের জানা উচিত।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সরব হয়েছেন সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজও (Anjali Bhardwaj) । ২০২৪ সালের ওড়িশা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন সেখানে ভোটারদের উপস্থিতির হার হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে কারচুপির ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের দিনের শেষে ভোটারদের উপস্থিতির যে প্রাথমিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন যে চূড়ান্ত হিসেবে বড় মাপের গরমিল ধরা পড়েছিল। এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বিজু জনতা দল নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও দেয়। যেখানে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে বেশ কিছু নির্বাচনী এলাকায় ভোট পড়ার হার ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে যা ব্যালট ফিক্সিং বা ভোট কারচুপির আশঙ্কার কারণ। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন যেকোনোভাবেই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোট করায়নি তা বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বাংলা থেকে এ অভিযোগ আগেই করা হয়েছিল এবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর একে একে অন্য রাজ্যের তথ্যও বেরিয়ে আসছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। ফর্ম ৬ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা সমেত তলব করেছেন প্রধান বিচারপতি। তবে দেশের শীর্ষ আদালতকেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মানতে রাজি নন অনেকেই। শিক্ষাবিদ তথা অধ্যাপক অপূর্বনন্দ ঝা (Professor Apurvanand Jha) বলছেন, গত এক দেড় বছর ধরে এই ফর্ম সিক্স বদল সংক্রান্ত অভিযোগ মামলা করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। শুনতেই চাইনি। তাঁর কথায়, সবকিছু জানা সত্ত্বেও বাংলার বিধানসভা নির্বাচন হতে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ দেশের শীর্ষ আদালতে এসবের মধ্যে যুক্ত রয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যেখানে বারবার করে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠছিল সেখানে হস্তক্ষেপ না করে এই প্রক্রিয়া চলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে হলেও আদালতের মদত রয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য শিক্ষাবিদের।















