প্রশাসক হিসেবে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) কর্মজীবনের রজত জয়ন্তী বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী ৭ অক্টোবর (বুধবার) 'সেবা জ্যোতি যাত্রা'র সূচনা হল। এদিন দিল্লিতে আয়োজিত 'বিকশিত ভারত সংকল্প সভা'-য় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদির মুখে বারবার উঠে এলো বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণে আত্মনির্ভর দেশের সংকল্পের কথা। নিজের প্রশাসনিক যাত্রা ২৫ বছরের মাইলফলকে বিশ্ব জয় করার লক্ষ্য বেঁধে দিলেন মোদি। নতুন উদ্যমে স্লোগান তুললেন -"উই উইল ডু ইট"। দীর্ঘ বক্তৃতায় বেদ থেকে বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ভারতের ঐতিহ্যশালী সংস্কৃতি এবং ১৪০ কোটি দেশবাসীর একতার শক্তিকে নতমস্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শেখার কোন শেষ নেই। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে নতুন নতুন শিক্ষা মেলে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আগামী লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।'

আরও পড়ুন: প্রশাসক মোদির ২৫ বছরের কর্মজীবনের উদযাপনে কলকাতায় 'সেবা জ্যোতি যাত্রা'র সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

আজ থেকে ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদি। তখন থেকেই প্রশাসক হিসেবে যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় এক যুগ। এদিন দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, "আমার এই দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশের সব দলীয় কর্মী ও দেশবাসীর সমর্থন ছিল অসামান্য। আজকের এই বিশেষ দিনটি কেবল অতীতের স্মৃতিতে ভেসে যাওয়ার দিন নয়। এটি আমাদের পুরনো অঙ্গীকারকে নতুন শক্তিতে ভরিয়ে তোলার দিন। এই দিনটি জোর গলায় সেই প্রতিজ্ঞাকে পুনরায় নিশ্চিত করার দিন।" ভূজের ভূমিকম্প থেকে কোভিডের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "এই সংকট আমাকে শেখায় বিপর্যয়ের পর পুনর্নির্মাণের কাজে কীভাবে অবিচল ও দৃঢ় থাকতে হয়।"দীর্ঘ কর্মজীবনের যাত্রায় পাশে থাকার জন্য দেশের মানুষ, বিজেপি, এনডিএ জোট এবং সমস্ত রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

ভারতীয় জনতা পার্টির 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এর অধীনে আয়োজিত 'বিকশিত ভারত সংকল্প সভা'-য় যোগ দিয়ে দেশের সাফল্য থেকে ব্যর্থতার স্মৃতিচারণায় আবেগ ঘন বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন চন্দ্রযানের কথা। আবার সম্প্রতি ফ্লাই দুবাইয়ের ভারতীয় পাইলটের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন এরপর গোটা বিশ্ব 'মেড ইন ইন্ডিয়া' প্লেন নিয়ে চর্চা করবে। নিজের গঠনমূলক সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি বলেন, "যাঁরা আমাকে নীচে নামাতে চেয়েছিল, তাঁরা আমাকে শেখিয়েছে কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়।" দেশ সেবার কথা মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেন সকলের সঙ্গে। তাঁর কথায়,"বেদ থেকে বিবেকানন্দ - যে দেশ হাজার হাজার বছর ধরে মহান চিন্তা চর্চা করে এসেছে এবং মানবজাতির ওপর মানবতার আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, এমন এক মহান দেশের সেবা করার সময় আমি কখনও জন্যও নিজেকে একা বোধ করিনি।" এদিন দিল্লির সরোজিনী নগরের শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও আরতি করে দেশবাসীর মঙ্গল কামনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। 

আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের স্বপ্নে নিজের লক্ষ্য সকলের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানো থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে দেশে অলিম্পিকস আসর বসানো এবং সব থেকে বড় কথা দেশকে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি উন্নীত করার লক্ষ্যে সকলকে একসঙ্গে সংকল্প নেওয়ার বার্তাও দেন মোদি।