বয়স মাত্র বারো-তেরো। যখন শহরের রাস্তাঘাট সেজে উঠছে রঙিন আলোয়, আর সমবয়সিরা মেতেছে নতুন জামা আর পুজোর আনন্দে, তখন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক কিশোর মগ্ন অন্য এক সাধনায়। দেবীনগরের বাসিন্দা, করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাস নিজের হাতে গড়ে তুলছে দেবী দুর্গার মৃণ্ময়ী রূপ। শুধু নিজের হাতে প্রতিমা তৈরিই নয়, এই প্রতিমা গড়ার যাবতীয় খরচ জোগাড় করতে সে প্রতিদিনের টিফিনের টাকা তিলে তিলে জমিয়েছে।
পড়াশোনা আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার ফাঁকে বাড়ির এক কোণে বসেই চলছে তার এই সৃষ্টিশীল প্রয়াস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে নিজের হাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছিল কৃষ্ণেন্দু। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। এ বছর পুজোর আবহে মোবাইলের পর্দায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিমার নকশা দেখে গত চার-পাঁচ দিন ধরে আপন মনে মাটির প্রলেপ দিয়ে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলছে সে। খড়, দড়ি আর এঁটেল মাটির সমন্বয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দশভুজার রূপ।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কৃষ্ণেন্দুর বাবা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। সংসারে সীমিত আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও ছেলের এই সৃষ্টিশীল ভাবনায় কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াননি মা বীনা ভৌমিক দাস ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। বরং ছেলের মাটির প্রতি এই টান দেখে তাঁরা প্রতিনিয়ত উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন। মাটির তাল মাখা থেকে শুরু করে প্রতিমার কাঠামো সাজানো, প্রতিটি ধাপেই ছেলের পাশে রয়েছেন অভিভাবকেরা।
পেশাদার মৃৎশিল্পীদের মতো নিখুঁত রেখা বা সূক্ষ্ম কারুকার্য হয়তো এখনও পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি তার কাজে, কিন্তু প্রতিটি মাটির প্রলেপে স্পষ্ট ফুটে উঠছে একাগ্রতা ও ভালোবাসা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই খুদে প্রতিভার কাজে মুগ্ধ। ভবিষ্যতে আরও বড় মাপের প্রতিমা শিল্পী হয়ে ওঠার স্বপ্ন বুকে নিয়েই এখন নিজের প্রতিমায় রঙের প্রলেপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রায়গঞ্জের এই স্কুলপড়ুয়া।















