জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহারাষ্ট্র জুড়ে চলছিল দহিহান্ডি উৎসব। কিন্তু তার মধ্যেই একাধিক জায়গায় ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। উৎসব চলাকালীন মুম্বইয়ে ইটের স্তম্ভ ভেঙে পড়ে প্রাণ গেল ৭ বছরের এক শিশুর। এদিকে পুনেতে দহিহান্ডির অনুষ্ঠানের পরে একটি অস্থায়ী লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। মুম্বই ও ঠানেতে মানব-পিরামিড তৈরি করতে গিয়ে কমপক্ষে ২১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মুম্বইয়ের মালবাণীর চিকুওয়াড়িতে একতা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে শুক্রবার বিকেল ৩টে নাগাদ শিশুরা দহিহান্ডি উদ্‌যাপন করছিল। হান্ডি ধরে রাখা দড়ির এক প্রান্ত গাছের সঙ্গে এবং অন্য প্রান্ত একটি একতলা বাড়ির ইটের স্তম্ভের সঙ্গে বাঁধা হয়েছিল। শিশুরা হান্ডি ভাঙার চেষ্টা করতেই হঠাৎ করে স্তম্ভটি ভেঙে পড়ে চাপা পড়ে যান ৭ বছরের রুদ্র কদম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মুম্বইয়ে মানব-পিরামিড তৈরির সময়ে আহত হয়েছেন ১৬৮ জন। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, ৮১ জনের চিকিৎসা চলছে এবং ৫৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। KEM হাসপাতালে ৩৩ জন, রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে ২০ জন এবং নায়ার হাসপাতালে ১৭ জন আহত ভক্তর চিকিৎসা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঠানেতে আরও ৪৪ জন আহত হন।

পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ওল্ড সাঙ্গভি এলাকায় দহিহান্ডির অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর লাউডস্পিকার রাখার জন্য শ্রমিকেরা অস্থায়ী লোহার কাঠামো খুলছিলেন। সেই সময় কাঠামোর একটি অংশ ৪৫ বছরের সালমা সালাউদ্দিন পাঠানের উপর পড়ার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। সালমার ছেলে সংশ্লিষ্ট দহিহান্ডি মণ্ডলের পদাধিকারী। পরিবারের তরফে আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই সংখ্যক মানুষের দুর্ঘটনার পর প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা।