ভারত-বাংলাদেশের ( India- Bangladesh) কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ( Bangladesh Prime Minister)তারেক রহমানের দিল্লি সফরের দিনক্ষণও এখনও নিশ্চিত করেনি ঢাকা। এরই মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিসরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এবং বাংলাদেশের ( Bangladesh) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরীর বৈঠকে উঠে এল দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা।

রবিবার ঢাকায় ( Dhaka) বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রকের দফতরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন দীনেশ ও নিতাই। বৈঠকে দু’দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মসৃণ করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ( Bangladesh)সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে ‘নজরুল বর্ষ’উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে দু’দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকশিল্প, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের ( India- Bangladesh)যৌথ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও সম্মেলন আয়োজন নিয়েও কথা হয়েছে।

বাংলাদেশের ( Bangladesh)সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী বৈঠকে বলেন," ভারত ও বাংলাদেশের ( India- Bangladesh)সম্পর্ক শুধু দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, এর সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আত্মিক যোগও জড়িয়ে রয়েছে।" সেইসঙ্গে দুই দেশের ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, লোকঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের মিলই এই সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের নজরুল গবেষক, শিল্পী এবং সংস্কৃতিবিদদের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী। অন্য দিকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ( India- Bangladesh Relation)কিছুটা শৈত্য তৈরি হয়েছিল। পরে চলতি বছরে নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয়। তবে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে ফের কূটনৈতিক চাপানউতর তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে মতপার্থক্য থাকলেও সংস্কৃতিকে দুই দেশের সম্পর্কের সেতু হিসেবে কাজে লাগানোর বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে  করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞেরা। নজরুলকে ( Nazrul) কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের  ( India- Bangladesh)সম্পর্ক  আগামীদিনে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক সহযোগিতার পথ কতটা মসৃণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।