আজ(রবিবার) নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিন।  অংশগ্রহণকারী সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতা এবং প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ছবি তুলবেন। তার পরে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলেনের শেষ দিনের আলোচনা শুরু হবে। বিশ্বরে প্রথম সারির একাধিক রাষ্ট্রনেতা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।  এই  সম্মেলন ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন কোনও মোড় এনে দিতে পারে এই সম্মেলন।

ব্রিকস সম্মেলন থেকে পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলল ভারত। সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ব্রিকস। এই সম্মেলনের প্রথম দিনের  ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ সাহায্য করাকে মেনে নেওয়া হবে না। ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করাই এখন । একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি’কেও প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিকস। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তাও দিয়েছেন ব্রিকসের নেতারা। বিশ্বমঞ্চে ফের ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক চাপে ফেলল নয়াদিল্লি। পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করল ইরান ও চিন।  এটা ভারতের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় জয়।

 উল্লেখ্য, চিনের উপস্থিতিতে পাকিস্তানকে চাপে ফেলল ভারত।কারণ চিন বরাবরই কূটনীতিতে পাকিস্তানের বন্ধু বলেই পরিচিত। হেলগাঁও হামলার পর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ‘বন্ধু’র পাশেই দাঁড়িয়েছিল বেজিং। শুধু তাই নয়, অস্ত্র-ড্রোন দিয়ে তারা সাহায্যও করেছিল। পাকিস্তান পরোক্ষভাবে বার বার সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়েছে। ভারতকে চাপে ফেলতে জঙ্গি কার্যকলাপকে সহযোগিতা করেছে। ভারত স্পষ্ট বলেছ আলোচনা এবং সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না। এমনকি ইরানও পাকিস্তানকে সাহায্য করে। তবে বেজিং-তেহরান উভয়েই এবার পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল দিল্লি থেকেই।

ব্রিকসে যোগ দিতে ২০২৩ সালে আবেদন করে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জোটটিতে যোগ দিতে চায় দেশটি। তবে ভারতের বিরোধিতার কারণে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সদস্য হতে পারেনি। ব্রিকসে যোগ দিতে সদস্যদেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

সাত বছর পর ভারতে এসেছেন শি জিনপিং। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই বিভেদ ভুলেই ভারতের আমন্ত্রণে ব্রিকসে যোগ দিতে এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট।বেজিং চাইছে সীমান্ত সমস্যা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই পাশাপাশি অগ্রগতি হোক।

অন্যদিকে নয়া দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তি।চিনের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা দরকার । একইসঙ্গে সহমতের ভিত্তিতে এগোতে হবে, যাতে সেই অগ্রগতি একে অপরের সহায়তা করে এবং দু’পক্ষই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এদিকে, শনিবার রাতে তাঁর আয়োজিত নৈশভোজে জিনপিংকে দেখা যায়নি। নৈশভোজে না গিয়ে হোটেলেই বিশ্রাম নেন চিনা প্রেসিডেন্ট। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধি হিসেবে আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদও দেশে ফিরে যাওয়ায় নৈশভোজে অংশ নিতে পারেননি।