আজ (রবিবার) ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিন। দিনের শুরতেই চড়ল কূটনীতির পারদ! চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশে নিয়ে বিরল খনিজ নিয়ে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে আরও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাতে নৈশভোজে অংশ নেননি চিনের প্রেসিডেন্ট। যা নিয়ে কূটনৈতির পারদ চড়তে থাকে। দিনের শুরু বক্তব্য পেশ করেন মোদি। সেখানে তিনি কৃষকদের উন্নতি জন্য এআই প্রযুক্তির কথা বলেন। পাশাপাশি বললেন, “বিরল খনিজকে হাতিয়ার করা উচিত নয়। এটি যৌথ প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করে।কৌশলগত সম্পদ ও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হলে, তা যৌথ উন্নয়নকে ব্যাহত করতে পারে। তাই প্রযুক্তি ও বিরল খনিজ সম্পদকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।”
ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেছেন, ‘আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ব্রিকসের উপর গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। কারণ এখানে তাঁদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং এই দেশগুলির সমস্যা সমাধানের রূপরেখা এখান থেকেই ঠিক হয়।
শেষ দিনের ভাষণে মোদি পরিবেশ সুরক্ষার এবং মানবজাতির উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রা্খার কথাও বলেন।এই প্রসঙ্গে মোদিও আরও বলেন, ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করি। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, সহযোগিতা আমাদের প্রেরণা জোগাক এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে আসে।’
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘‘বিশ্ব জুড়ে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, উত্তেজনা বাড়ছে এর জেরে সাধারণ মানুষের জীবনের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মহামারী থেকে শুরু করে জলবায়ু সংক্রান্ত বিপর্যয়— এই সমস্যা গুলো বিশ্বজনীন কোনও নির্দিষ্ট দেশে আটকে নেই। তাই আমরা জোটবদ্ধভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর জোর দিচ্ছি্। কী কী চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আসতে পারে, তা সময়মতো চিহ্নিত করা এবং তার মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।’’
আজ(রবিবার) নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিন। অংশগ্রহণকারী সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতা এবং প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ছবি তোলেন। তার পরে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলেনের শেষ দিনের আলোচনা শুরু হয়। বিশ্বরে প্রথম সারির একাধিক রাষ্ট্রনেতা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এই সম্মেলন ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
















