উপজ চলছে। মানে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ ।এমবাপে বিদায় হয়ে গেছে। যাকে বলে ব্যাপক বিদায়।
Sponsored

আহা স্পেন, আহা ইয়ামাল!
এই বিশ্বকাপ কি ইয়ামালের বিশ্বকাপ হতে চলেছে ? তবে ভুললে চলবে না এবারও কিন্তু এখনও পর্যন্ত বেশির চেয়ে বেশি মেসি। অপেক্ষায় রয়েছে বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেন। দারুণ সব ড্রিবলিং, থ্রু পাস, সেট পিস মুভ, অসাধারণ ফ্রি কিক, হেডিং আর বিচিত্র সব পেনাল্টি শট দেখছি আমরা।
তবে পেনাল্টি শটের কথা উঠলেই মনে পড়ে পানেঙ্কা স্টাইল। এক অভিনব উদ্ভাবন।
১৯৭৬ সালে উয়েফা ইউরো ( UEFA Euro ) টুর্নামেন্টের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়া বনাম পশ্চিম জার্মানি ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়।
চেক মিডফিল্ডার আন্তোনিন পানেঙ্কা (Antonin Panenka ) একটি ঝুঁকিপূর্ণ হালকা চিপ শট নেন এবং জার্মান গোলরক্ষক পুরোপুরি বোকা বনে যান।
তিনি অনুমান করে একপ্রান্তে ঝাঁপান, কিন্তু বলটি মাঝখান দিয়ে জালে জড়ায়। চেকোস্লোভাকিয়া চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পেনাল্টি মারার ক্ষেত্রে ফুটবল-বিশ্ব একটা নতুন কৌশলের সন্ধান পায়, যার নাম রাখা হয় পানেঙ্কা বা পানেনকা শট। ( Panenka ইংরেজি উচ্চারণটি শোনায় কিছুটা
Fanenka ধরনের, প আর ফ-এর মাঝামাঝি অদ্ভুত সুন্দর একটা উচ্চারণ ) । এই শট নেওয়ার সময় খেলোয়াড় পায়ের আঙুলের সাহায্যে অর্থাৎ বুটের ডগা দিয়ে বলের ঠিক নিচে আলতো টোকা দেন বা চিপ করেন। এই শট নেওয়ার সময় ধরেই নেওয়া হয় গোলকিপার তাঁর পূর্বানুমান অনুযায়ী গোলের বাঁ কিংবা ডানদিকে আগাম ঝাঁপ দেবেন। কিন্তু এসব না করে গোলকিপার যদি মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে এই শট সহজেই আটকে দিতে পারেন। তাই এই শট এতো ঝুঁকিপূর্ণ।
এই শটের উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আকর্ষণীয় একটি গল্প । শোনা যায় এই ফাইনাল খেলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জার্মান শিবির থেকে চেক শিবিরে একটা অদ্ভুত অনুরোধ আসে। তাতে বলা হয় চেক শিবির যদি রাজি থাকে তাহলে ফাইনাল খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পরেও যদি গোলশূন্য থাকে, তাহলে তারা তখনকার নিয়ম অনুযায়ী replay ম্যাচ না খেলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে ম্যাচের ফয়সালা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
কারণ জার্মান দলের খেলোয়াড়দের নাকি ছুটি কাটানোর জন্য টিকিট বুক করা আছে। তারা অতিরিক্ত একটা দিন নষ্ট করতে রাজি নয়।
এই অদ্ভুত প্রস্তাবে চেক দল প্রথমে হতভম্ব হয়ে গেলেও পরে তাঁরা রাজি হয়ে যান এই ভেবে যে, রিপ্লে ম্যাচের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে অনেক ভালো টাইব্রেকারে যাওয়া।
এতে যে কোনো দল জিততে পারে। নাটকীয় এই ম্যাচের শুরুতে গোল করে এগিয়ে যায় চেক দল। পরে অসাধারণ লড়াই করে গোল শোধ করে পশ্চিম জার্মানি। খেলা শেষপর্যন্ত ২--২ গোলে শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ে আর গোল না হওয়ায় সাহায্য নেওয়া হয় টাইব্রেকারের এবং ৫--৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে কাপ জিতে নেয় চেক দল । মনে রাখতে হবে জার্মান গোলে ছিলেন বিখ্যাত শেপ মায়ার।
তাঁকে বোকা বানানো মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু পানেঙ্কা সেদিন অভিনব এক কৌশল ভেবে রেখেছিলেন। যে শটটি ঘরোয়া ফুটবলে তাঁদের গোলকিপারের সঙ্গে বাজি ধরে অসংখ্যবার অনুশীলন করেছেন পানেঙ্কা, সেই শটটি দিয়েই অনায়াসে বাজিমাত করলেন এবং রচনা করলেন নয়া ইতিহাস।
ঘরোয়া অনুশীলনে বাজি জিততে হলে পাঁচটি পেনাল্টি শটের পাঁচটিতেই গোল করার শর্ত থাকতো। একটিও মিস হলে বাজি হেরে গোলকিপারকে খাওয়াতে হতো চকোলেট কিংবা বিয়ার। বেশিরভাগ বাজিই হারতেন পানেঙ্কা। কিছুটা হতোদ্যম হয়েই ভাবতে থাকেন নতুন কোনো কৌশল আবিষ্কারের কথা। গভীরভাবে লক্ষ্য করতে থাকেন পেনাল্টির সময় গোলকিপারের নড়াচড়া ও অন্যান্য আচরণ। একসময় সফল হয় পর্যবেক্ষণ। তিনি লক্ষ্য করেন গোলরক্ষকেরা পেনাল্টি শট রুখতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঁ দিকে অথবা ডান দিকে ঝাঁপান, ফলে মাঝখানের অনেকটা জায়গা অরক্ষিত থাকে। তাই কিছুটা ঝুঁকি নেওয়া যেতেই পারে।
বিশ্ব- ফুটবলের অন্যতম সেরা এক মঞ্চে তিনি ব্যবহার করলেন তাঁর এই অভিনব উদ্ভাবন এবং চিরকালের জন্য ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী জায়গা করে নিলেন।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored










