Site Logo

'বারেসি ও মালদিনি', উৎপল সিনহার কলম

EBBS Desk··1 min read
'বারেসি ও মালদিনি', উৎপল সিনহার কলম

অধিনায়ক বারেসি কাঁদছেন। ফ্র্যাঙ্কো বারেসি।

Sponsored

Sranchi In Article

তিনি পেনাল্টি মিস করেছেন। হেরে গেছে তাঁর দেশ ইতালি । রক্ষণে দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে ১২০ মিনিট পর্যন্ত ব্রাজিলকে রুখে দেওয়ার নায়ক বারেসি শেষে খলনায়ক হিসেবে মাঠ ছাড়লেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! 

Sponsored

Merlin In Article

দেশের জন্য যিনি ভাঙা পায়ের চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন, অনায়াসে থামিয়ে দিচ্ছিলেন রোমারিও বাহিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণ, সেই তিনিই তীরে এসে ডোবালেন তরী। টাইব্রেকারে তিনি গোল করতে পারলে হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো ইতিহাস। তবু, সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে ফ্রাঙ্কো বারেসির নাম লেখা থাকবে উজ্জ্বল অক্ষরে । 

Sponsored

Shyam Sundar In Article

লোকে মাঠে আসে গোল দেখতে। দেখতে আসে নয়নাভিরাম ড্রিবলিং, সুক্ষ্ম পাসিং, হেডিং আর বুদ্ধিদীপ্ত  সেট পিস মুভ। কিন্তু একজন ডিফেন্ডারের খেলা যে এতো দৃষ্টিনন্দন হতে পারে তা বারেসির খেলা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ধীর স্থির অচঞ্চল। শান্ত ট্যাকেল, অটল প্রত্যয়। কোনো হাঁকপাক নেই, ধাক্কাধাক্কি নেই, বরং তুলিতে আঁকা ছবির মতো অতুলনীয় ফুটবল। যাকে বলে একেবারে জাত ডিফেন্ডার। 

Sponsored

Camelia In Article

বিপক্ষের আক্রমণটা প্রথমে নষ্ট করে দাও, বিপক্ষের খেলার গতিটা মন্থর করে দাও, সুকৌশলে বিপক্ষের ছন্দে ও লয়ে লাগাম টেনে দাও, এই ছিল বারেসির ফুটবল দর্শন। সত্যিই অবিস্মরণীয়। 

Sponsored

Techno India In Article

আর মালদিনি ? ইতালির সেরা তো বটেই ,বিশ্বের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে যাঁর নাম বারবার উঠে আসে, সেই সুদর্শনের নাম পাওলো সিজার মালদিনি। ক্লাব ফুটবল হোক অথবা বিশ্বকাপ, যে কোনো ম্যাচে যেখানে বল সেখানেই মালদিনি। আশ্চর্য এক খেলোয়াড়! রক্ষণাত্মক দর্শনের ক্ষেত্রে মালদিনির অমর উক্তি, " যদি আমাকে কোনো ট্যাকল করতে হয়, তবে আমি ইতিমধ্যে একটি ভুল করেছি। " 

Sponsored

Probe In Article

নিখুঁত পজিশনিং এবং অসামান্য সময়জ্ঞানের মাধ্যমে বলের দখল নেওয়ায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ট্যাকল করতে হচ্ছে, তার অর্থ বিপক্ষের কাছে প্রথম দফায় পরাজিত হতে হয়েছে , এটা মেনে নিতে কোনো অস্বস্তি বোধ করতেন না গ্রেট মালদিনি। তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের ফুটবল জীবনে তিনি জিনেদিন জিদান, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো মারাদোনা প্রমুখ ইতিহাসের সেরা ফরোয়ার্ডদের সামলেছেন নিপুণ দক্ষতায়। দীর্ঘসময় ধরে ইতালি এবং এসি মিলানের অধিনায়ক থাকার ফলে তাঁর ছদ্মনাম হয়ে যায় ' এল কাপিতানো'। 

আধুনিক ফুটবলের রক্ষণ কৌশলের শেষকথা বা প্রতীক হিসেবে বিশ্ববন্দিত মালদিনিকে কাটিয়ে চলে যাওয়া ছিল প্রায় বিরল ঘটনা। তাঁর প্রায় নিখুঁত ও দুর্ভেদ্য রক্ষণকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়া ছিল যে কোনো স্ট্রাইকারের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। আবার এই মালদিনিই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলায় খেলা শুরুর ৫২ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। এসি মিলানের হয়ে গোলটি তিনি করেন লিভারপুলের বিপক্ষে। ম্যাচের শুরুতেই আন্দ্রে পিরলোর একটি ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো ভলিতে গোলটি করেন মালদিনি , যা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কোনো ফাইনাল ম্যাচে দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড হয়ে আছে। মালদিনিকে ড্রিবল করে কোনো খেলোয়াড় বেরিয়ে গেছেন মানেই ইতালি কিংবা এসি মিলানের জালে বল জড়ানো প্রায় অবধারিত বলেই ধরে নিতেন দর্শকেরা।

তাঁর সমকালে দুনিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ফরোয়ার্ডদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি বারবার। তবে এঁদের মধ্যে একজনকে তিনি বেছে নিয়েছেন বক্সের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার হিসেবে। তাঁর নাম রোনালদো নাজারিও। এছাড়াও মেসিকে তাঁর দেখা অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি, যাঁর বিরুদ্ধে কখনও খেলেন নি তিনি। কিন্তু খেললে মেসিকে সামলানো তাঁর পক্ষে ভীষণ কঠিন হতো একথা জানাতে ভোলেন নি। মালদিনিকে বোকা বানিয়ে কিংবা ড্রিবল করে তাঁকে একেবারে মাটি ধরিয়ে কোনো ফরোয়ার্ড গোল করেছেন এমন রেকর্ড প্রায় বিরল। তাঁর বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল ( ১২ টি ) করেন ফিওরেন্টিনার স্ট্রাইকার এনরিকো চিয়েসা।

মালদিনি ইতালি জাতীয় দলের হয়ে ৪ টি বিশ্বকাপ ও ৩ টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ( যে বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন বারেসি ) ইতালিকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পাওলো মালদিনি । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফাইনালে হারতে হয় তাঁদের। তাই বিশ্বকাপ তাঁর অধরা থেকে যায়। ৪ বারের বিশ্বজয়ী ইতালি আজ আট বছর ধরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে নেই। এবারও ইতালির খেলা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বলে বিশ্বকাপটা একটু পানসে লাগছে বৈকি। যতই যা হোক না কেন, নীল জার্সিতে ঝলমলে আজুরিরা অনন্য সব নজির রেখে গেছে বিশ্বের মাঠে মাঠে, সবুজ ঘাসের গালিচায়। ফিরে এসো ইতালি। 

Related Articles

More from অন্যান্য

View All →