গীতার অনুবাদের ভাষা এবার সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলল। অনুবাদের সেই দীর্ঘ তালিকায় এবার নতুন পালক হিসেবে সংযোজিত হল কুড়মালি ও সাঁওতালি ভাষা। দুই ভাষাতেই সম্পূর্ণ গীতার অনুবাদ করেছেন সাহিত্য অ্যাকাডেমি যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি অভিমন্যু মাহাত। এর ফলে যাঁদের মাতৃভাষা কুড়মালি বা সাঁওতালি, তাঁরা এবার অনায়াসেই নিজেদের মাতৃভাষায় গীতার শ্লোক ও দর্শন পাঠ করতে পারবেন।
Sponsored

শনিবার কলকাতার সুজাতা সদনে ‘সুবর্ণরেখা’ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই দুই অনুবাদ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হয়। বই দুটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকার কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্য বাজেটেও তার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এই আবহে গীতার মতো একটি মহাকাব্যিক গ্রন্থ দুই আদিবাসী ভাষাতে অনূদিত হওয়া অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয় কাজ।’’
প্রকাশক সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁওতালি ভাষায় গীতার অনুবাদ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ‘বইতন্ত্র’ এবং কুড়মালি ভাষার গ্রন্থটির প্রকাশক ‘আদিবর্ণ’। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিবিড় ভাষা-গবেষণার ফসল হিসেবে সম্পূর্ণ গীতার ১৮টি অধ্যায় কুড়মালি এবং সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনুবাদক। অভিমন্যু মাহাতর কথায়, অনুবাদ করার সময় মূল সংস্কৃত ভাব ও দর্শনকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভাষার স্বাভাবিক শব্দভাণ্ডার, ব্যাকরণ এবং নিজস্ব ভাষাশৈলীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এই অনুবাদ কেবল আক্ষরিক ভাষান্তর মাত্র হয়ে থাকেনি, বরং আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে গীতার শাশ্বত ভাবধারার একটি সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করেছে।
অনুবাদক অভিমন্যু মাহাতর আদি বাড়ি পুরুলিয়ার শরবেড়িয়া গ্রামে। বাংলা সাহিত্য জগতেও তিনি অত্যন্ত পরিচিত নাম। ইতিপূর্বে তিনি সাহিত্য অ্যাকাডেমি যুব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা ভাষায় তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ সমাদৃত। এর আগেও তিনি কুড়মালি ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ অনুবাদ করে নজর কেড়েছিলেন। অভিমন্যু বাবু জানান, তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল কুড়মালি ও সাঁওতালি ভাষাভাষী সাধারণ মানুষের কাছে গীতার গুঢ় শিক্ষাকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। সেই কারণেই আক্ষরিক অনুবাদের পথে না হেঁটে ভাবের স্বাভাবিকতা এবং সাধারণ মানুষের পাঠযোগ্যতার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ভাষাবিদদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদিবাসী ভাষাগুলির বিকাশ যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই নতুন প্রজন্মও নিজেদের মাতৃভাষা চর্চার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, কুড়মালি ও সাঁওতালি ভাষায় গীতার এই অনুবাদ আগামী দিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভাষা-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored












