বর্ষার কারণে দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য অবশেষে খুলে দেওয়া হল ডুয়ার্সের সমস্ত অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার। আর কয়েক দিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। ঠিক উৎসবের মুখেই বনাঞ্চলগুলি উন্মুক্ত হওয়ায় খুশি পর্যটক থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই। ইতিমধ্যে পুজোর ছুটিতে সবুজ অরণ্য, নদী, পাহাড় আর বন্যপ্রাণের সান্নিধ্য পেতে পর্যটকদের অগ্রিম বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। 

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এ বারও বন্যপ্রাণীদের প্রজনন মরসুমের জন্য গত তিন মাস ডুয়ার্সের জঙ্গলগুলিতে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর বন দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ফের পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন সরকারের তরফে জঙ্গলে প্রবেশমূল্য মকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকারের আমলেও নিয়মবিধির ক্ষেত্রে কিছু বদল এনে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 

প্রতি বছরই পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে। লাটাগুড়ি, গরুমারা, জলদাপাড়া, চালসা থেকে শুরু করে চিলাপাতা— সর্বত্রই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘ দিন জঙ্গল বন্ধ থাকার পর ফের বনভ্রমণ এবং জঙ্গল সাফারি শুরু হওয়ায় ডুয়ার্সের হোটেল, রিসর্ট মালিক এবং গাড়িচালকদের মধ্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, বিগত কয়েক মাসের মন্দা কাটিয়ে পুজোর দিনগুলিতে ভালো ভিড় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। জঙ্গল খোলার প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে।