স্কুল চত্বরে পড়ে থাকা খোলা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হল প্রায় কুড়ি জন পড়ুয়া। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার যোগেশগঞ্জ হাইস্কুলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। আহতদের মধ্যে ১৩ জন পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে পড়ুয়াদের এমন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন স্কুল চলাকালীন চত্বরের এক প্রান্তে বিপজ্জনক ভাবে বিদ্যুতের তার পড়েছিল। বিষয়টি বুঝতে না পেরে অসাবধানতাবশত কয়েক জন পড়ুয়া সেই তারে হাত দিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক পড়ুয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। প্রায় কুড়ি জন ছাত্রছাত্রী এই ঘটনার কবলে পড়ে এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি আক্রান্তদের উদ্ধার করে সন্দেলবিল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৩ জন পড়ুয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়।

দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই আতঙ্কিত অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলে এসে ভিড় জমান। স্কুলের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে খোলা বিদ্যুতের তার পড়ে রইল এবং দীর্ঘক্ষণ তা শিক্ষক বা কর্মীদের নজরে এল না কেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই আজ কচিকাঁচাদের জীবন বিপন্ন হতে বসেছিল।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বাক্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। স্কুল চত্বরে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও কেন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন অভিভাবকেরা। গোটা ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।