পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেই আদালত চত্বরে এক অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল রায়গঞ্জ জেলা আদালতে। বুধবার অস্ত্র আইনে ধৃত এক পঞ্চায়েত সদস্যকে আদালতে তোলার সময় এই ঘটনা ঘটে। আদালতের মতো সংবেদনশীল চত্বরে এমন বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার গাফিলতির প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইনজীবীরা। ডিম ছোড়ায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে পাকড়াও করেন আইনজীবীরাই, যার জেরে আদালত চত্বরে পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতি বেঁধে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হওয়া রায়গঞ্জের কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রাজেশ নন্দী ওরফে বাবাইকে এ দিন রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে আসে পুলিশ। অভিযোগ, আদালত চত্বরে আগে থেকেই কিছু মানুষ দলবদ্ধ ভাবে অপেক্ষা করছিল। পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে রাজেশকে এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময়ই ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর পচা ডিম ছোড়া হয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ এক যুবককে আটক করলে, সে উপস্থিত জনতার মধ্যে কয়েক জনের প্ররোচনার কথা ইঙ্গিত করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পিছনে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিচারালয় চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। পরিস্থিতি মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তর দিনাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সায়ন চৌধুরী বলেন, কোনও ব্যক্তি অপরাধী কি না, তা আইন ও বিচারব্যবস্থা ঠিক করবে। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালত চত্বরে কারও ওপর এই ধরনের হামলা চালানো সংবিধান ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।

আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, এমন অপ্রীতিকর ঘটনা যে ঘটতে পারে, তার আগাম আশঙ্কার কথা আগেই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আদালত চত্বরে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি। এই গাফিলতির অভিযোগ তুলে ডিম ছোড়ায় যুক্ত থাকা সন্দেহে দু’জনকে আইনজীবীরা নিজেরাই আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে বার অ্যাসোসিয়েশন।