নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ভেসে আসা বিশালাকার মাছ দেদার বিকোচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও বিহারের খোলা বাজারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মাছ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করলেও ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে বিভিন্ন মাছের আড়তে। প্রশাসনের কোনও কার্যকর নজরদারি না থাকায় অবাধে চলছে বিকিকিনি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ী সূত্রের খবর, সোমবার শিলিগুড়ির নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রায় এক টন ‘বাঘা মাছ’ এসে পৌঁছয়। একেকটি মাছের ওজন প্রায় ২০ কিলোগ্রাম বা তারও বেশি। বিহারের সীমান্ত পেরিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাছ উত্তরবঙ্গের বাজারগুলিতে ঢুকেছে বলে জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ি শহরের কয়েকটি খুচরো বাজারে এই মাছ প্রতি কিলোগ্রাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে দেদার বিক্রি হয়েছে। পিঠে বা কোলে করে বিশালাকার এই মাছ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে। কম দামে এমন বড় মাছ পেয়ে সচেতনতার তোয়াক্কা না করেই সাধারণ ক্রেতারা তা কিনতে ভিড় জমান।
প্রাণী ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিশালাকার এই মাংসাশী মাছ ক্যাটফিশ প্রজাতির, যা পরিচিত ‘ডেভিল ক্যাটফিশ’ নামেও। বড় মুখ ও আঁশহীন এই মাছের শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা ছোপ থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘোলা জল ও দূষিত পরিবেশ থেকে ভেসে আসা এই মাছের গুণমান এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। তা ছাড়া উত্তরবঙ্গের স্থানীয় নদীগুলিতে এই বিপন্ন প্রজাতির মাছ ধরা আইনত নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও সীমান্ত পেরিয়ে ভিন্রাজ্য হয়ে কী ভাবে বিপুল পরিমাণ মাছ বাজারে ঢুকল এবং তা অবাধে বিক্রি হল, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কাঠগড়ায় উঠেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি সত্ত্বেও প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকেরা।















