পিতৃপক্ষের এক পক্ষ কালের সমাপ্তি লগ্নে আজ মহালয়া (Mahalaya)। অমাবস্যা তিথিতে তর্পনের মাধ্যমে পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা অর্পণ। প্রতিবারের মতো এবারও বাঙালির মহালয়ার সকাল শুরু হয়েছে মহিষাসুরমর্দিনীর অসামান্য সৃষ্টিকে সঙ্গে করে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ভিড় বাড়ছে গঙ্গার ঘাট গুলিতে। বাগবাজার থেকে বাবুঘাট সর্বত্র একই ছবি ধরা পড়েছে। নদী ঘাটগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবান্ন থেকে জারি হয়েছে বারো দফা নির্দেশিকা।
পঞ্জিকা মতে শনিবার দিনভর মহালয়ার অমাবস্যা তিথি থাকছে। এদিন রাত ৮টা ৩৪ মিনিটের পর মাতৃপক্ষ শুরু হবে। শাস্ত্রমতে বিশ্বাস করা হয়, পিতৃপক্ষের অন্য কোনও তিথিতে শ্রাদ্ধ করতে না পারলে মহালয়া অমাবস্যায় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা যায়। যাঁদের মৃত্যুতিথি জানা নেই, তাঁদের জন্যও এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তর্পণ উপলক্ষে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।দুর্ঘটনা এড়াতে রিভার ট্রাফিক পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পুলিশের লঞ্চ গঙ্গার বুকে টহল দিচ্ছে। বাবুঘাট, বাগবাজার, শোভাবাজার, নিমতলা ঘাট সংলগ্ন রাস্তায় যানজট এড়াতে বেশ কিছু রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই ছবি হাওড়াতেও। কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঘাট গুলিতেও সকাল থেকে তর্পনের ভিড় চোখে পড়েছে। প্রতিটি বড় বড় ঘাটে একজন করে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রাজেশ শাসকদলের একাধিক নেতৃত্ব এদিন সকালে গঙ্গায় গিয়ে তর্পণ করেছেন। শাস্ত্র মতে আজই দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তিতে চক্ষুদান হয়। সকাল থেকে তরুণ প্রজন্মের ভিড় কুমোরটুলি চত্বরে। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে বড় ঘাটগুলিতে প্রাথমিক চিকিৎসার শিবির এবং অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দিয়েছে নবান্ন। এদিন বিকেলে ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিন হাজার ঢাক বাদ্য ও তিন হাজার ড্রোন শো মিলিয়ে পরিবর্তনের বাংলায় দুর্গা আবাহনে নতুন নজির তৈরি হতে চলেছে।















