Site Logo

বাংলা বলার অপরাধে খুন পরিয়ায়ী শ্রমিক! আইন আনুক কেন্দ্র: সুখেন-খুনে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ চন্দ্রিমা-ব্রাত্যর

EBBS Desk·
বাংলা বলার অপরাধে খুন পরিয়ায়ী শ্রমিক! আইন আনুক কেন্দ্র: সুখেন-খুনে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ চন্দ্রিমা-ব্রাত্যর

ফের ডবলইঞ্জিনের জোট সরকারের রাজ্যে খুন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্রের পুনেতে (Pune, Maharastra) পিটিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। এর প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার কেন্দ্রের মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার, তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) ও ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, এক রাজ্যের মানুষ অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে পারবেন না। করলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে- এই আইন আনুক কেন্দ্র!

Sponsored

Sranchi In Article

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের একটি ছেলে, ৩১ বছর বয়স। মহারাষ্ট্রের পুনেতে বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে মেরে ফেলা হল। এটা প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আমরা দেখে আসছি। এ বিষয়ে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কুড়মি পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের পাশে থাকবার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।” এর পরেই প্রশ্ন তোলেন চন্দ্রিমা। বলেন, “এটা কেন চলবে আমরা জিজ্ঞাসা করতে চাই। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কথা বলার অধিকার, যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। এর জন্য খুন হতে হবে? সেই অধিকার পদদলিত করতে হবে?” আরও পড়ুন: ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে বিশ্বকাপে দুর্নীতি! অবিক্রিত নরম পানীয় ফের বোতলবন্দি

Sponsored

Merlin In Article

চন্দ্রিমার কথায়, “বাংলা বললে বাংলাদেশি? চলে যেতে হবে? সোনালি খাতুনকে আপনারা দেখেছেন। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে পুনেতে কাজ করার জন্য গিয়েছিল, তাকে খুন করা হল। আমরা ধিক্কার জানাই। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতিকার চেয়েছেন। যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের শাস্তির দাবি করেছেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারে বারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই কথাগুলো বলেছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করি।”

Sponsored

Shyam Sundar In Article

ব্রাত্য বসু বলেন, “ছেলেটির অপরাধ- ছেলেটি বাংলা বলেছিল। আরেক অপরাধ, ছেলেটি আদিবাসী। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যারা হত হচ্ছে বা নির্যাতিত হচ্ছে কিংবা যাদের পুশব্যাক করা হচ্ছে বা ধরে মারা হচ্ছে, তাদের মূলত তিনটি বর্গে ভাগ করা যেতে পারে: ১. তারা সংখ্যালঘু, ২. তারা দলিত বা মতুয়া এবং ৩. তারা আদিবাসী। বিজেপি প্রধানত একটি মনুবাদী পার্টি। মনুবাদের বর্গে যাদের অনুসূচিত, শূদ্র বা নিচু শ্রেণি বলা হয়েছে, তারা কোনওমতেই ছাড় পাচ্ছে না। ভেবে দেখুন, আজকে আমার যে সহ নাগরিক মারা গেছেন-ভাই সুখেন মাহাতো, তিনি একজন আদিবাসী।”

Sponsored

Camelia In Article

এর পরেই বিজেপিকে নিশানা করে ব্রাত্য বলেন, “বিজেপির স্লোগানের মূল কথা হচ্ছে ‘বাঁচাই মারতে, তাই বাঙালির মুন্ডু চাই’এটাই এখন তাদের রাজনীতির মূল ন্যারেটিভ। তারা মনে করে, উচ্চবিত্ত ও তথাকথিত ‘ভদ্র’ হিন্দু বাঙালিরা মূলত ডরপোক; কারণ বাঙালি শান্তিপ্রিয়, মাছে-ভাতে থাকা ছাপোষা জাতি। আমরা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে সংলগ্ন থাকা জাতি, যারা অন্য জাতিকে মারতে যায় না। বিজেপির কাছে একদিকে তথাকথিত ‘ভদ্র’ হিন্দুরা ভীতু, আর অন্যদিকে সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও দলিতরা হচ্ছে লক্ষ্যবস্তু। এদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে বিজেপি আসলে তাদের মনুবাদী উচ্চমান্যতাকেই প্রকাশ করছে; নিম্নবর্গের মানুষকে তারা ঠিক কী চোখে দেখে, তা এখান থেকেই প্রতিভাত হয়। এর মধ্যে দিয়ে ভিন্ন রাজ্যে দুই হাজারেরও বেশি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে হয়রানি ও অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ১০৭ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছেন।” চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ক্ষোভ উগরে বলেন, “বিজেপির স্লোগান হওয়া উচিত ছিল ‘বাঁচতে চাই’, কিন্তু তাদের কাজের ধরন বলছে ‘বাঙালি মারতে মুণ্ডু চাই’। এটাই তাদের রাজনীতির আসল রূপ।”

Sponsored

Techno India In Article

বিজেপির অভিযোগ, বাংলায় কাজ নেই বলেই অন্য রাজ্যে যান বাংলার মানুষ। এই বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে গর্জে ওঠেন চন্দ্রিমা-ব্রাত্য। বলেন, বাংলা অন্য রাজ্যের লাখো মানুষ কাজ করতে আসেন। তাঁদের সম্মানে রাখা হয়। দেশের যে কোনও জায়গায় কাজে যাওয়ার অধিকার সবার আছে। এর পরেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, তাহলে কেন্দ্র আইন আনুক, যে অন্য রাজ্যে কাজে গেলে, সেই শ্রমিককে মেরে ফেলা হবে।

Sponsored

Probe In Article

তৃণমূলের পক্ষে ইতিমধ্যেই বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো, শান্তিরাম মাহাতো, রাজীব লোচন সরেনরা গিয়ে সুখেন মাহাতোর শোকতপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানান চন্দ্রিমারা। বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন আমরা যাওয়ার পর হয়ত ওরা যাবে।

-

-

-

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →