Site Logo

বাংলায় আগুন রাজনীতি শাহর: বিজেপি রাজ্যে ক্ষতিপূরণ কোথায়, দ্বিচারিতা স্পষ্ট করলেন ব্রাত্য

EBBS Desk·
বাংলায় আগুন রাজনীতি শাহর: বিজেপি রাজ্যে ক্ষতিপূরণ কোথায়, দ্বিচারিতা স্পষ্ট করলেন ব্রাত্য

বাংলার মানুষকে দেওয়ার জন্য ভাঁড়ার শূন্য বিজেপির। নিজেদের খামতি ঢাকতে ব্যস্ত বঙ্গ বিজেপির নেতা থেকে মোদি-শাহ। এবার কলকাতার আনন্দপুরে গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি টেনে অমিত শাহ (Amit Shah) নিজেই স্পষ্ট করে দিলেন আগুনে মৃত্যুকেও বিধানসভা ভোটের রাজনীতিতে কাজে লাগাচ্ছেন তাঁরা। দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয় বলে জোর গলায় প্রচার চালিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (Home Minister) শাহ। পাল্টা বিজেপি শাসিত রাজ্যের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি ক্ষতিপূরণের যে রাজনীতি বিজেপি শুরু করেছে, তাতে বিজেপি শাসিত রাজ্যে একের পর এক ক্ষতিপূরণে বিজেপির বঞ্চনার ছবি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে।

Sponsored

Sranchi In Article

ব্যারাকপুরের কর্মিসভা মঞ্চ থেকে অমিত শাহ দাবি করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি চলছে আনন্দপুরের গুদামে আগুন (factory fire) লাগার ঘটনা। বঙ্গ বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে মোমো কারখানার মালিককে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন। যেখানে আগুন লাগার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারি শুরু করে পুলিশ, সেখানে একটি মালিকের গ্রেফতারি নিয়ে শাহর প্রশ্ন, যে মোমো কারখানার মালিক কার সঙ্গে বিমানে বিদেশ সফর করেছিলেন। এখনও কেন গ্রেফতারি হল না। আজ ২৫ জন মারা গিয়েছে (fire death)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করছি এরা ঘুসপেটিয়া হলে আপনি চুপ করে থাকতেন। মানুষের মৃত্য়ুতে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি কেন করছেন।

Sponsored

Merlin In Article

আদতে যে তদন্ত বা দোষারোপের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি, তা যে ভোটের বাজারে ফাঁকা আওয়াজ তার প্রমাণ শাহর তদন্তের দাবিতেই। অন্যান্য ঘটনায় যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবিতে সরব হয় বিজেপি, সেখানে শাহ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্ত করুন। আর সবার আগে এর জন্য যারা দায়ী, তাঁদের জেলে ভরুন। পরিবেশের এনওসি ছিল না। জলাভূমিতে গুদাম তৈরি হল। গুদামের দরজা বন্ধ ছিল কি না। বন্ধ কেন করা হয়েছি। ভিতরে মানুষ জ্বলেছে, চিৎকার করেছে। কিন্তু বেরোতে পারেনি। আমি আজ বলতে এসেছি, পর্দা দিতে চাইলে দিন। এপ্রিলের পরে ক্ষমতায় এসে এই অপরাধীদের বেছে বেছে শাস্তি দেব।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

বাস্তবে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ যে তদন্ত চালাচ্ছে, তারাও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গ্রেফতার করেছে গুদামের মালিক ও মোমো কারখানার দুই আধিকারিককে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কিছুই চাওয়ার মতো বাকি নেই বিজেপির, এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা ছাড়া। শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতার কথা ঘোষণা করে পাশে দাঁড়ানোর কথা মনে করিয়েছেন। আদতে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আর্থিক সাহায্যও যে রাজনীতির পাশা, তা স্পষ্ট বিজেপির ত্রাণ বা সহযোগিতা ঘোষণা ও তা পালনের সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে।

Sponsored

Camelia In Article

বাংলায় ভোট, তাই তড়িঘড়ি ত্রাণ নিয়ে বহু আলোচনা। সেই আলোচনার পর্দা সরিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) তথ্য তুলে ধরেন, গুজরাটের দিশা জেলা। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঠিক এরকম একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার মিলিতভাবে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে বলে ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে বলেন ২ লক্ষ টাকা দেব। আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেব। গুজরাট (Gujarat) সরকার টাকার বহর নিয়ে আসে। সুপ্রিম কোর্টে ওই আহত ও নিহত ব্যক্তির পরিবার গিয়েছে, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এখনও তার অর্ধেক টাকাও দেয়নি।

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

এর পাশাপাশি আরও দুই উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, রাজস্থানের জয়সলমেরে ২০২৫ সালের অক্টোবর। একটি বাসের অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের মৃত্যু। রাজস্থান হাই কোর্টে মামলা হয়েছে। কোর্ট ভর্ৎসনা করেছে সরকার যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে বলেছিল কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার তার ৫০ শতাংশ টাকাও দেয়নি। মধ্যপ্রদেশের হাড্ডায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের এক বছর পরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি। আমাদের সমালোচনা হচ্ছে হোক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু গুজরাটের (Gujarat) দিশা, রাজস্থানের (Rajsathan) জয়সলমের, মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) হাড্ডা। আগুনে মানুষের মৃত্য়ু (fire death) আর সরকার কী নিষ্করুণ ব্যবহার করেছে।

-

-

-

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →