আবার উচ্ছেদ। আবার নরকযন্ত্রণা। আবার বিশাল সংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা প্রশ্নচিহ্নের সামনে। বারবার জানানো সত্ত্বেও হকারদের পুনর্বাসনের কোনওরকম সুযোগ না দিয়ে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয়েছে। নোটিশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। একটি নোটিশে বলা হয়েছে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের উপর বিদ্যাপতি সেতু অর্থাৎ শিয়ালদহ ফ্লাইওভার রয়েছে। তার নিচের জায়গা দখল করা হয়েছে। অবিলম্বে স্থায়ী-অস্থায়ী যে কোনও ধরনের নির্মাণ অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্দেশ মানা না হয় তাহলে ১৯৮০ সালের কলকাতা পুর-আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্য সরকার যে কতখানি অমানবিক হতে পারে তার উদাহরণ এই নোটিশ।

শিয়ালদহ ফ্লাইওভার এলাকা ঘিরে বহু মানুষের রুটি-রুজি চলে। বহু মানুষ বাজার-দোকান করেন এই এলাকায়। কয়েক লক্ষের সংসার চলে। সেই মানুষগুলির জীবন-জীবিকাকে পদদলিত করে ফের রাস্তায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু শিয়ালদহ নয় যাদবপুরের সুকান্ত সেতু এলাকাতেও বলা হয়েছে কোনও ছোট ব্যবসায়ী বা হকার যেন স্থায়ী অস্থায়ী কাঠামো নিয়ে না বসে। দ্রুত সমস্ত কাঠামো যেন খুলে নেওয়া হয়। নইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তৃণমূল কংগ্রেস বারবার এই ধরনের উচ্ছেদের বিরোধিতা জানিয়ে এসেছে। এই দুটি নোটিশ হাতে পাওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকাটা এখন প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। পুনর্বাসন নেই, সহমর্মিতা নেই, গরিব মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। এই বুলডোজার সরকার মানুষ বরদাস্ত করবেন না। দেওয়ালে পিঠ ঠেকলে তাঁরাই জবাব দেবেন।