বিজেপির কাছে মাথা নত নয়: ভিড়ে ঠাসা কর্মিসভায় এককাট্টা হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক মমতার

লড়াই আগেও করেছি, আবার করব— কিন্তু গলা কেটে দিলেও বিজেপির কাছে মাথা নত করব না। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সম্মেলনে ফোন মারফত এই ভাষাতেই দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে এদিন মহারাষ্ট্র নিবাস হলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীর ফোনের মাধ্যমে নেত্রীর এই বার্তা পৌঁছতেই গোটা হল হাততালির ঝড়ে ফেটে পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে নেত্রীর এই বার্তা কর্মীদের নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Sponsored


দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আপনারা এককাট্টা থাকুন। আপনারাই আমাদের আসল সম্পদ। তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে এবং থাকবে। দল নিশ্চিতভাবেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এখন পুলিশ দিয়ে রাজ্য চালাচ্ছে। কিন্তু আপনারা কেউ ভয় পাবেন না, মাথা উঁচু করে থাকবেন। একই সঙ্গে দলবদলুদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে নেত্রী বলেন, তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন বেইমানেরা বিজেপির কোলে মাথা রেখেছে। নিজেদের অপরাধ ও সম্পত্তি বাঁচাতেই ওরা বিজেপির হাত ধরেছে। এদের কোনও ক্ষমা নেই। দলের যে সমস্ত নেতা-নেত্রী গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানিয়ে মমতা বলেন, তাঁরা বিজেপির হাতে নিজেদের বিকিয়ে দেননি, মেরুদণ্ড সোজা রেখে লড়াই চালাচ্ছেন। আমাদের পার্টির ফান্ড ও সবকিছু কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তবে শূন্য থেকে আমরা আবার নতুন করে দল তৈরি করে নেব।

আইনের ওপর এখনও তাঁর ভরসা রয়েছে জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী কর্মীদের নির্দেশ দেন, আপনারা নিজেদের এলাকায় থাকুন, কমিটি গড়ুন এবং মানুষের দরজায় দরজায় যান। একই সঙ্গে দিল্লির সমীকরণ মনে করিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস একা ক্ষমতায় আসতে পারবে না, বাইশটি দলের জোট রয়েছে। আমাদের লড়াই করেই এগিয়ে যেতে হবে। যে কোনও পরিস্থিতিতেই আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ-তর্পণ সফল করার ডাক দেন তিনি।

এদিনের কর্মী-সম্মেলনে রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দক্ষিণের জেলা সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী, আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরি-সহ একাধিক নেতা-নেত্রী এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই একযোগে শপথ নিয়েছেন যা-ই ঘটুক না কেন একুশে জুলাই শহিদ-তর্পণ হবেই। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দলবদলুদের তোপ দেগে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ সামনে রেখে নিজেদের ইমেজ তৈরি করে, তাঁর টিকিটে জিতে এখন বেইমানি করা হচ্ছে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই ওরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তবে একুশে জুলাই আইন মেনেই হবে, ওদের চাপিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে হবে না। কুণাল ঘোষ আরও বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলে বেইমানদের বিসর্জন দিয়ে আগামী দিনে কলকাতা কর্পোরেশন তৃণমূলের হাতেই থাকবে। নতুন মুখ সামনে আসবে এবং প্রার্থী কে হলেন তা বড় কথা নয়, দল যাকে দাঁড় করাবে তাকেই জিতিয়ে আনাই হবে মূল অঙ্গীকার।



Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

একুশের সাফল্যেই বিরোধীদের অস্বস্তি: তীব্র কটাক্ষ কুণালের
7h ago

'বিদ্রোহীদের' সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জের! সংসদ থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
10h ago

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নথি হাতে ED দফতরে মদন-পুত্র
12h ago

রাস্তা জুড়ে অবৈধ দখলদারি চলবে না, হকারদের সতর্ক করলেন অগ্নিমিত্রা
14h ago

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
15h ago

পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি, নিউটাউনে একই পরিবারের মৃত তিন
1d ago
More from মহানগর
View All →
শহিদ দিবসের আবেগঘন পোস্টে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বার্তা মমতা- অভিষেকের
1d ago

মমতার সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ আদালতের
1d ago

তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মিছিল, নেত্রীর সমর্থনে স্লোগান কুণালের
1d ago

একুশের শহরে কোথাও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ, কোথাও মমতার সমর্থনে কর্মীদের উন্মাদনা
1d ago

রাত পেরিয়ে সকালেও তারামণ্ডলের সামনে মমতা, কর্মী-সমর্থকদের সভায় আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
1d ago
