পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া নামের মধ্যে সিংহভাগই মহিলা ভোটার। বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রণয় রায়ের একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণকে হাতিয়ার করে এমনই বিস্ফোরক দাবি সামনে এল রাজনৈতিক মহলে। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে যে নামগুলি বাদ পড়েছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশই মহিলা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। 


প্রণয় রায়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় পুরুষদের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বেশি সংখ্যক মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য নিজের এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করে পরিসংখ্যান তুলে ধরে সাগরিকা অভিযোগ করেছেন, এত বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়া নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি বা কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পিছনে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নকশা’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগের নিশানায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিও। 

সাগরিকার বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী রাজ্যের মহিলারা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী-সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের কাছে রাজ্য সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বলে দাবি তৃণমূল সাংসদের। 

এক্স-পোস্টে সাগরিকা লিখেছেন, ‘‘এখন নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঠিক কী ভাবে বাংলা দখল করার ছক কষেছিল।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছে। বিয়ের পরে ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা নথিতে সামান্য বানানভুলের মতো কারণ দেখিয়ে বহু বৈধ মহিলা ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিক বার কমিশনের কাছে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন সভায় অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। 

তবে সাগরিকার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মহিলা ভোটারদের বিষয়টি। তাঁর দেওয়া ৬২ শতাংশের পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যের নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই তাঁদের একটি বড় অংশকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এবং পরিসংখ্যান নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।