নির্ভয়া-কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে ফের রাজধানীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ। ফের পর্দা টানা স্লিপার বাসে নাবালিকা ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ বাসের চালক (Driver) ও কন্ডাক্টরের (Conductor) বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের গ্রেফতা করেছে দিল্লি পুলিশ। বাসটিও (Bus) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
১৪ বছর আগে চলন্ত বাসে তাঁর প্রেমিকের সামনে চলন্ত লাক্সারি বাসে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করে বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হয়। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যু হয় নির্ভয়া। দেশজুড়ে দোষীদের চরম শাস্তির দাবিতে আন্দোলন হয়। সেই ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দিল ৪ অগাস্ট দিল্লির বাসে নাবালিকার গণধর্ষণের ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লির (Delhi) কাশ্মীরি গেটগামী একটি স্লিপার বাসে চড়ে উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী জেলার বাসিন্দা ওই কিশোরী। অভিযোগ, পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি ছাড়ে সে। গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ৬৩ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভুলবশত পরী চকে নেমে যায়। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় একা অপেক্ষা করার পরে খালি স্লিপার বাস দেখে সেটিকে দাঁড় করাতে হাত দেখায়।
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপ তাকে জানায়, তারা নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকেই যাচ্ছে, তাকে নামিয়ে দেবে। সেই কথায় ভরসা করে কিশোরী বাসে ওঠে। অভিযোগ, কিছুক্ষণ চলার পরেই বাসের কন্ডাক্টর একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। বাধা দিলে চালক ও কন্ডাক্টর দু’জনে মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরী চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথে চলন্ত বাসের মধ্যেই দফায় দফায় তার উপরে যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কাশ্মীরি গেট ISBT-র কাছে রিং রোড এলাকায় কিশোরীকে নামিয়ে দেয় অভিযোগ।
নিকটবর্তী কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে পুলিশের (Police) কাছে ঘটনার কথা জানায়। তদন্তে নেমে কুলদীপ ও সন্দীপকে উত্তর দিল্লির তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং লট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। বাজেয়াপ্ত করা বাসটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরে ফের দিল্লিতে গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পর্দাটানা স্লিপার বাসে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।















