রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য একগুচ্ছ কল্যাণমূলক পদক্ষেপ, আর্থিক সহায়তা প্রকল্প এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। মুসলিম ছাত্রীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। তারপর থেকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিতর্ক।
তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী এ এম শাহজাহান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, আধা সরকারি এবং সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া বেসরকারি কলেজে মুসলিম ছাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেখাপরা করার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন: হড়পা বানের ধ্বংসলীলার মধ্যেও অটুট বাড়ি, প্রাণে বাঁচলেন আশ্রিতরা
স্নাতক স্তর পর্যন্ত আর্টস, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, কৃষি এবং আইন পড়াশোনার জন্য মুসলিম ছাত্রীদের কোনওরকম ফি দিতে হবে না।
এই প্রকল্পে বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা। আগে যে ওয়াকফ স্কলারশিপ রাজ্যের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা পেত, সেটা এবার দশম শ্রেণি পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্যও একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ওয়াকফ এবং চার্চের সম্পত্তিতে কমিউনিটি হল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সংখ্যালঘু মহিলাদের শিক্ষার হার বাড়ানোর লক্ষ্যে চেন্নাইয়ে (Chennai) একটি পৃথক কলেজ তৈরির পরিকল্পনা জানিয়েছে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড। একই সঙ্গে বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতে নিখোঁজদের পরিসংখ্যান প্রকাশ চিনের!
সরকারের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা সংখ্যালঘু মহিলাদের মূলস্রোতে আনতে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্প প্রয়োজন। এদিকে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক এই পৃথক ব্যবস্থা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
থালাপতি সরকারের (Tamil Nadu) সমালোচকদের বক্তব্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও বহু আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক পরিবারের মহিলা রয়েছেন। তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নও উঠছে।
















