অবশেষে IIT Bombay-তে দ্বিতীয় বর্ষের এক BTech পড়ুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে কর্তৃপক্ষ ও বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজেদের আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে IIT Bombay কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর শিরীষ কেদার (Director Shirish Kedar) পদত্যাগ করেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তাও খারিজ করা হয়েছে। IIT Bombay-এর তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “সাহিলের দুঃখজনক মৃত্যু পরিস্থিতি নিয়ে যে বক্তব্য আগে দেওয়া হয়েছিল আমাদের তরফে, তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।” কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি এখনও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন।

প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা বা চরিত্রায়ণ করা সমীচীন হয়নি। IIT Bombay জানিয়েছে, “তদন্ত চলাকালীন, যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়ায় তথ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া বা সেগুলিকে নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উপযুক্ত হয়নি।” অন্যদিকে, ডিরেক্টর শিরীষ কেদার পদত্যাগ করেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সরাসরি নাকচ করেছে IIT Bombay। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “Director IIT Bombay has NOT resigned. We categorically state that the related news is false.” তবে রবিবার রাতে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকে কেদার জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “I will resign; however, I have to follow the process and will convey my decision after a meeting on Monday.” এরপরই তিনি বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত ১৮ দফা দাবির একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন।

ঘটনার সূত্রপাত সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকোড়ের (Sahil Ravindra Wakode) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। গত শুক্রবার IIT Bombay ক্যাম্পাসের হস্টেল ঘর থেকে দ্বিতীয় বর্ষের ওই পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তার কয়েক ঘণ্টা আগে মিড-সেমেস্টার পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ও ChatGPT ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়েছিল। এই ঘটনায় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ইনভিজিলেটর সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে IIT Bombay Faculty Forum। ফ্যাকাল্টি ফোরামের বক্তব্য, পরীক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়ার কাছে “unauthorised possession and use of a smartphone” ধরা পড়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করেছিলেন। এদিকে সাহিলের পরিবার ও বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্থা এবং জাতিগত বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাঁদের দাবি, এই পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর যোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়। IIT Bombay-ও জানিয়েছে, মৃত্যুর নেপথ্যের ঠিক কী আছে সেই নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।