ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিতে নিরামিষের প্রাধান্য সংক্রান্ত বহু প্রচলিত ধারণাকে কার্যত উড়িয়ে দিল জাতীয় স্তরের সাম্প্রতিক একাধিক সমীক্ষা রিপোর্ট। সরকারি পরিসংখ্যান এবং জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার (NFHS) তথ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, গোটা দেশে অন্তত ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ নাগরিকই আমিষ খাবার পছন্দ করেন। পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে এই হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে ৯৯.৪ শতাংশ মানুষ আমিষাশী, যা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৭৫ শতাংশ নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস বা ডিম রাখেন। ভৌগোলিক বিন্যাসে দেখা যাচ্ছে, কেরলে ৯৮.৯ শতাংশ, তেলঙ্গানায় ৯৮.৭ শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলিতে ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ মানুষ নিয়মিত আমিষ খেয়ে থাকেন। একমাত্র উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলি— যেমন রাজস্থান, হরিয়ানা ও পঞ্জাবে আমিষভোজীদের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম, অর্থাৎ ৫০ শতাংশের নীচে।
খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত এই সমীক্ষার তথ্য ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে কেবল নিরামিষ পদ রাখা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, যেখানে দেশের সিংহভাগ নাগরিক আমিষাশী এবং ভারতের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতিতে আমিষ পদের বৈচিত্র বিশ্ববন্দিত, সেখানে খাদ্যতালিকা নির্ধারণে জোর করে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অনভিপ্রেত। সরকারি সমীক্ষার এই পরিসংখ্যানে সেই বক্তব্যই আরও জোরালো মাত্রা পেল।
















