বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে পকসো আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগে ৩২টি অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করেছে জামুইয়ের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত যখন চলছে, তখন রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন এবং তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী শ্রবণ কুমারের একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রীর দাবি, “এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেই থাকে। দেশ থেকে তো আর অপরাধ নির্মূল হয়ে যায়নি।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার টিউশন সেরে স্কুটিতে করে মাদওয়া পাহাড় এলাকায় গিয়েছিল দুই কিশোর-কিশোরী। ফেরার পথে একদল যুবক তাঁদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। প্রথমে বচসা ও গালিগালাজ, পরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় গোটা ঘটনার ভিডিয়ো মোবাইলে রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিয়োয় কিশোরকে আটকে রাখার পাশাপাশি কিশোরীর সঙ্গে জোর করে টানাটানির দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিয়োয় কিশোরীর অস্বস্তি ও সাহায্যের আবেদনও শোনা যায়। কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় ওই দুই কিশোর-কিশোরী। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাত থেকে আটজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে। এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে দু’জন নাবালক।

শ্রবণ কুমারের মন্তব্য নিয়েই এখন নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন মন্তব্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিরোধীদের প্রশ্ন, নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে অপরাধকে তাহলে ঠিক কীভাবে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে কীভাবে প্রভাবিত করছে। এই ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট অপরাধের বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে জননিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধের ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একাধিক প্রশ্ন।