মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। আর সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই এবার নতুন করে উত্তেজনা।
CJP-র আন্দোলনের বিরোধিতা করে পাল্টা জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ রিঙ্কু যাদব, যিনি রিঙ্কু পেহলওয়ান নামেও পরিচিত। তাঁর ভিডিয়ো বার্তায় কুস্তিগীর, জিম ট্রেনার এবং শরীরচর্চায় আগ্রহী যুবকদের দিল্লিতে পৌঁছনোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে লাঠি নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ফলে শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, একটি ভিডিয়ো বার্তায় রিঙ্কু উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লির কুস্তিগীর এবং জিমে শরীরচর্চা করেন এমন যুবকদের ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে উপস্থিত থাকার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে এবং CJP-র আন্দোলনের মোকাবিলায় যুবকদের এগিয়ে আসা উচিত। CJP-কে আক্রমণ করে রিঙ্কুর অভিযোগ, সংগঠনটি কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস, আবার কখনও ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখে আন্দোলন করছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে হেয় করা এবং দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি লাঠি নিয়ে জমায়েতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং CJP-র বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে অশান্তির আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে CJP-র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং অভিনেতা-অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজ। সেখানে SIR বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান ওঠে। এর আগে দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও সংগঠনটির বিক্ষোভ হয়েছে। এবার সেই আন্দোলনকে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে জবাবদিহির দাবিতে CJP-র জমায়েত, অন্যদিকে সেই কর্মসূচির বিরোধিতায় রিঙ্কু যাদবের পাল্টা আহ্বান—দুইয়ের জেরে দিল্লিতে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও, কোনও কর্মসূচিকে ঘিরে হিংসা বা ভয় দেখানোর আশঙ্কা তৈরি হলে প্রশাসনের দায়িত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এখন নজর ১০ অক্টোবরের দিকে—যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে?















